রূপগঞ্জ থেকে মোঃ মাসুদ করিম : রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌরসভার বরপা বাসষ্টান্ড এলাকায় রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে স্থানীয় যুবদল ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ব্যাপক সংঘর্ষে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ চলাকালে ফাঁকা গুলি বর্ষণ, মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ এবং ১৬টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৩ জন আহত হয়েছেন। গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার তারাবো পৌরসভার বরপা এলাকায় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তারাবো পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আরজু ভূঁইয়ার সঙ্গে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা রাফিন ভূঁইয়ার কথা-কাটাকাটি হয়।
এক পর্যায়ে যুবদল নেতা আরজু ভূঁইয়া ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রলীগ নেতা রাফিনের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করেন। এরপর রাফিন ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। কিছুক্ষণ পর অন্য এলাকা থেকে মোটর বাইকে একদল যুবক এসে বরপা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে যুবদল নেতা আরজু ভূঁইয়ার সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রলীগ নেতা রাফিনের সমর্থকদের একটি মোটর সাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং নানা ধরনের প্রতিবাদী স্লোগান দিতে থাকে। পরবর্তীতে আরজুর লোকজন ধাওয়া করে ছাত্রলীগ নেতা রাফিন ও তার আত্মীয়স্বজনের অন্তত ১৬টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িতে ভাংচুর চালায়।
এ সময় হামলায় বাধা দিতে গেলে ইয়ার হোসেনসহ ৩ জন গুরুতর আহত হন।
ঘটনার খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলামের নেতৃত্বে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন,এ ঘটনায় ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৩-৪ জনকে আসামি করে রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
