শনিবার | অক্টোবর ৩, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ ছেলে হত্যার বিচার দেখে যেতে পারলেন না শহীদ সবুজের পিতা আজহার আলী

ছেলে হত্যার বিচার দেখে যেতে পারলেন না শহীদ সবুজের পিতা আজহার আলী

শ্রীবরদী (শেরপুর) প্রতিনিধি : শেরপুরের শ্রীবরদীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ সবুজ মিয়ার বাবা আজাহার আলী আর নেই। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি মারা গেছেন। রাতে বাদ এশা রুপারপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে মরহুমের জানাযা শেষে তাকে দাফন করা হয়।

তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ছেলে হত্যার বিচার দেখে যাওয়ার অপেক্ষারও অবসান হলো।

আজাহার আলী শ্রীবরদী উপজেলার খড়িয়াকাজিরচর ইউনিয়নের রূপাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর ছেলে সবুজ মিয়া ছিলেন শ্রীবরদী সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট শেরপুর জেলা শহরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গিয়ে গু/লিবিদ্ধ হয়ে নি/হত হন সবুজ।

পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে কাজ করতেন সবুজ। তাঁর বাবা আজাহার আলী ছিলেন পক্ষাঘাতগ্রস্ত। বাবার অসুস্থতার কারণে পরিবারের দায়িত্বও অনেকটা কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তিনি। সবুজের মৃ/ত্যুর পর প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলে তিনি জিপিএ-৪.৩৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।

ছেলের মৃত্যুর পর থেকেই হত্যার বিচার পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন আজাহার আলী ও তাঁর পরিবার। সবুজ হ/ত্যার ঘটনায় তাঁর সৎ ভাই সাদ্দাম হোসেন বাদী হয়ে শেরপুর সদর থানায় মামলা করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আদালতে ২০৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়।

তবে সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মামলাটির বিচার এখনো শেষ হয়নি। ২০২৬ সালের আগস্টেও শহীদ সবুজের পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত বিচার ও আসামিদের শাস্তির দাবি জানানো হয়েছিল।

আজাহার আলীর মৃ/ত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। ছেলে হারানোর পর দীর্ঘ দুই বছর ধরে বিচারপ্রক্রিয়ার দিকে তাকিয়ে থাকা এই বাবার শেষ পর্যন্ত আর ছেলের হত্যার রায় দেখে যাওয়া হলো না।

শহীদ সবুজ মিয়ার বাবা আজাহার আলীর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে বিএনপি, জামায়াত,
এনসিপি, গন অধিকার পরিষদ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা