সাতক্ষীরা থেকে কালিদাস রায় : সাতক্ষীরা-৩ সংসদীয় আসনের সাংসদ হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাসারের নামে গ্রামীন অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় বরাদ্দপ্রাপ্ত ২০ লাখ টাকার মধ্যে তিন লাখ ৬৫ হাজার টাকা নিয়মবহির্ভুতভাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি এখন কালিগঞ্জ ও আশাশুনিবাসীর মুখে মুখে।
কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ ও আশাশুনি উপজেলা পরিষদের দুইজন কর্মকর্তা জানান, ২০২৬- ২০২৭ অর্থবছরে গ্রামীন অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় (টিআর) সাতক্ষীরা-৩ সংসদীয় আসনের সাংসদ হাফেজ মুহাদ্দিস রব্উিল বাসার ২০ লাখ টাকা পান। নিয়ম অনুযায়ি সরকারি প্রতিষ্ঠানে সংস্কারকল্পে এ টাকা বরাদ্দ দেওয়ার কথা। কিন্তু ওই সাংসদ নিয়মের ব্যত্তয় ঘটিয়ে গত ২৯ সেপ্টেম্বর কালিগঞ্জ উপজেলায় বরাদ্দকৃত ১০ লাখ টাকার মধ্যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নলতা আল হেরা মাদ্রাসা সংস্কারে দুই লাখ ও কালিগঞ্জ প্রেসক্লাব সংস্কারে দেড় লাখ টাকা প্রকল্প বরাদ্দ দিয়েছেন। একইভাবে আশাশুনি উপজেলায় বরাদ্দকৃত ১০ লাখ টাকার মধ্যে আশাশুনি প্রেসক্লাব সংস্কারের জন্য এক লাখ ১৫ হাজার টাকার প্রকল্প বরাদ্দ দিয়েছেন।
কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের ভবন সংস্কারে দেড় লাখ ও আশাশুনি প্রেসক্লাব সংস্কার এক লাখ ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশাশুনি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আকাশ।
কালিগঞ্জ বাজারগ্রাম রহিমপুরের সালেহা খাতুন জানান, নিয়ম অনুযায়ি একজন সাংসদের নামে বরাদ্দকৃত উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা সরকারি প্রতিষ্ঠানে খরচ করতে হবে। কারণ, অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনো দেয়াল থেকে প্লাস্টার খসে পড়ছে। অনেক সরকারি অফিসের ছাদে ফাটল ধরেছে। এক্ই কথা বলেন আশাশুনি উপজেলার তুয়ারডাঙার কামরুল গাজী। তিনি আগামিতে সংসদের অনুকুলে বরাদ্দকৃত টাকা সরকারি প্রতিষ্ঠানে খরচ করার আহবান জানান।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা-৩ আসনের সাংসদ জামায়াত নেতা হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাসারের সঙ্গে তার মুঠোফোনে শনিবার কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা আজিজুর রহমান জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তার জানা নেই। বিষয়টি সংসদ সদস্য মহোদয়ের বিষয়। তিনি ফোন ধরছেন না তাই কি করা যায় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংসদ সদস্য মহোদয়ের সাথে কথা বলে পরে জানাতে পারবেন।
