মাতামুহুরী থেকে ওমর ফারুক : ঘটনার বিবরণ ও ৩ জনকে অপহরণ: গত ৫ অক্টোবর রাতে কক্সবাজারের মাতামুহুরী উপজেলার বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাতডালিয়া পাড়ায় এক নারকীয় তাণ্ডব চালানো হয়। কুখ্যাত বালু ব্যবসায়ী কালু ড্রাইভারের নেতৃত্বে শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী সাধারণ শেয়ারদারদের উচ্ছেদ করতে ৫ নম্বর লটারির বরাদ্দকৃত ঘোনায় হামলা চালায়। এ সময় একাধিক ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং ৩ জন শেয়ারদারকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত অপহৃতদের কোনো সন্ধান মেলেনি।
সাংবাদিক লাঞ্ছনা ও প্রাণনাশের হুমকি: এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর এলাকায় অবৈধ বালু ব্যবসা, ভূমি দখল ও পরিবেশ দূষণ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় সিনিয়র সাংবাদিক এটিএম আমিরুল গনি খোকনের ওপর হামলা চালায় কালু ড্রাইভার ও তার সহযোগীরা। তাঁকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারও চালানো হয়।
অবৈধ বালুর সাম্রাজ্য ও পরিবেশ বিপর্যয়: অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাতডালিয়া পাড়ার প্রায় ৫ হাজার সদস্যের জমি দখল করে ড্রেজার ও এক্সক্যাভেটর দিয়ে অবৈধ বালুর সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে এই সিন্ডিকেট। ড্রেজারের সার্বক্ষণিক বিকট শব্দ এবং বালু পরিবহনের কারণে স্থানীয় মসজিদ, মাদ্রাসা ও আবাসিক এলাকার পরিবেশ চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও স্থানীয়দের অভিযোগ: এই অবৈধ বালু উত্তোলন ও ভূমি দখলের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (UNO), থানা, ভূমি অফিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং মানববন্ধন করেছেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর আলটিমেটাম: উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পরিবার ও পুরো এলাকা জুড়ে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় জনতা অবিলম্বে অপহৃতদের উদ্ধার, কালু ড্রাইভারসহ জড়িত সকল অপরাধীকে গ্রেপ্তার এবং অবৈধ বালু মহাল বন্ধের জোরালো দাবি জানিয়েছেন। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও বড় ধরনের জনরোষের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এলাকাবাসী।
