শনিবার | অক্টোবর ১৭, ২০২৬
প্রচ্ছদ শিক্ষা চার বছরেও নির্মাণ হয়নি বিদ্যালয়ের ভবন, শ্রীবরদীতে ঝুঁকিপূর্ণ টিনের ঘরে চলছে পাঠদান

চার বছরেও নির্মাণ হয়নি বিদ্যালয়ের ভবন, শ্রীবরদীতে ঝুঁকিপূর্ণ টিনের ঘরে চলছে পাঠদান

তারেক মুহম্মদ আব্দুল্লাহ রানা, শেরপুর : শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড, আর প্রাথমিক বিদ্যালয় সেই শিক্ষারই প্রথম ধাপ। কিন্তু বিদ্যালয় আছে, শিক্ষার্থী আছে, আছে পাঠদানের আগ্রহ—শুধু নেই শ্রেণিকক্ষ।

ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে ফেলার পর নতুন ভবন নির্মাণের আশ্বাস মিললেও পেরিয়ে গেছে চার বছর। অথচ এখনো নতুন ভবনের দেখা মেলেনি।

ফলে খোলা আকাশের নিচে কিংবা টিনের অস্থায়ী ঘরে চলছে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কাউনেরচর ১১ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান।

কেউ বসেছে বেঞ্চে, কেউবা মাটিতে। মাথার ওপর কখনো খোলা আকাশ, কখনো টিনের অস্থায়ী চালা। এভাবেই পাঠদানে অংশ নিচ্ছে কাউনেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার আলো ছড়ানোর কথা যে বিদ্যালয় থেকে, সেখানে শ্রেণিকক্ষের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান। রোদ-বৃষ্টি কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা কতটা নির্বিঘ্নে চলছে, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
বিদ্যালয়টির একতলা ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় ২০২২ সালে তা ভেঙে ফেলা হয় ।

সে সময় নতুন ভবন নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হলেও কেটে গেছে চারটি বছর। কিন্তু এখনো নির্মিত হয়নি নতুন ভবন।

ফলে নিরাপদ ও উপযুক্ত শ্রেণিকক্ষের অপেক্ষায় দিন কাটছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের। তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে বিদ্যালয়টিতে একটি নতুন ভবন নির্মাণ করবে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো গোলাম মোস্তফা বলেন, ১৯৭৫ সালে বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। এখানে একটি ভবন থাকলেও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় তা ভেঙ্গে ফেলা হয়। নতুন ভবন নির্মাণ না করায় জরাজীর্ণ টিনের ঘরে পাঠদান করাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। গরম ও বর্ষা মৌসুমে নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা লিপি আক্তার বলেন, ৫ জন শিক্ষকের মধ্যে ৪ জনই নারী শিক্ষক এ বিদ্যালয়ে কর্মরত। ওয়াশরুম না থাকায় শিক্ষিকারা স্কুলের পাশের বাড়িতে যেতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন বলেন, ১৯৭৫ সালে বিদ্যালয়টি স্থাপিত হলেও দীর্ঘদিনেও তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি বিদ্যালয়টিতে। ঝুঁপড়ি টিনের ঘরে প্রচন্ড গরমে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হচ্ছে। বিদ্যালয়ের পাশে একটি গর্ত থাকায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে অবকাঠামোগত উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই কাউনেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা