বুধবার | অক্টোবর ২১, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ অস্ত্রের মুখে টাকা-মুঠোফোন লুট, আহত কয়েকজন; এখনো পর্যন্ত গ্রেপ্তার নেই

ঈদগাঁও–ঈদগড় সড়কে দিনদুপুরে গণডাকাতি :

অস্ত্রের মুখে টাকা-মুঠোফোন লুট, আহত কয়েকজন; এখনো পর্যন্ত গ্রেপ্তার নেই

এইচ এন আলম, কক্সবাজার : কক্সবাজারের ঈদগাঁও–ঈদগড়–বাইশারী সড়কের হিমছড়ি ঢালায় দিনদুপুরে অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে ব্যাপক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ২০ অক্টোবর সকাল ও দুপুরে দুই দফায় এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৪০থেকে ৫০টি যানবাহনের শতাধিক যাত্রী ডাকাতদের কবলে পড়েন। তাঁদের কাছ থেকে নগদ টাকা, মুঠোফোন, ব্যাংকের চেকবইসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়েছে। ডাকাতদের মারধরে কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান শুরু করলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, মুখোশধারী ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল সড়কে যানবাহনের গতিরোধ করে যাত্রীদের জিম্মি করে। পরে তাঁদের পাশের জঙ্গলে নিয়ে মারধর করে সঙ্গে থাকা টাকা ও মালামাল ছিনিয়ে নেয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে দুই দফায় এ লুটপাট চলে বলে দাবি করেছেন তাঁরা।

ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম সিফাতুল মাজদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, স্থানীয় কিছু দুর্বৃত্ত সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যানবাহনে লুটপাট চালিয়ে জঙ্গলে আত্মগোপন করেছে।

তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ঈদগাঁও–ঈদগড়–বাইশারী সড়কের গহিন বনাঞ্চল এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে মোট কতটি যানবাহনে ডাকাতি হয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।

এনজিও কর্মকর্তার ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লুট

একটি বেসরকারি সংস্থার ঈদগড় শাখার ব্যবস্থাপক মো. রবিউল ইসলাম জানান, দুপুর ১২টার দিকে তিনি এক সহকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে ঈদগাঁও বাজার থেকে ঈদগড় যাচ্ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিল। হিমছড়ি ঢালায় পৌঁছালে মুখোশধারী ১০ থেকে ১২ জন সশস্ত্র ব্যক্তি তাঁদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। পরে দুজনকে পাশের জঙ্গলে নিয়ে মারধর করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, দুটি মুঠোফোন ও কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে কিছুক্ষণ পর ছেড়ে দেওয়া হয়।

রবিউল ইসলামের দাবি, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে ডাকাতেরা ৪০ থেকে ৫০টি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের যাত্রীদের জিম্মি করে লুটপাট চালায়। বেলা তিনটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান শুরু করে। তবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার সময় সড়কে পুলিশের টহল ছিল না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

চেকবইসহ দেড় লাখ টাকা লুট

আরেকটি বেসরকারি সংস্থার ঈদগড় শাখার হিসাবরক্ষক আবদুল হাকিম বলেন, তাঁরা তিনজন একটি অটোরিকশায় করে ঈদগাঁও বাজার থেকে ঈদগড় বাজারে যাচ্ছিলেন। পথে সশস্ত্র ডাকাতেরা তাঁদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে মারধরের পর তাঁদের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা ও ব্যাংকের চেকবই ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

চলন্ত অটোরিকশা থেকে লাফ দিয়ে রক্ষা

ঈদগড়ের বাসিন্দা মোহাম্মদ তারেকও ডাকাতির শিকার হয়েছেন। তিনি জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে পাঁচ যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ঈদগাঁও থেকে ঈদগড় যাচ্ছিলেন। হিমছড়ি ঢালায় পৌঁছালে তাঁদের গাড়িটি ডাকাতদের কবলে পড়ে। এ সময় তাঁর মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। জীবন বাঁচাতে তিনি চলন্ত অটোরিকশা থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যান।

ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন দৈনিক জনতাকে বলেন,সকাল আটটা ও দুপুর ১২টার দিকে দুই দফায় ডাকাতি হয়। দুই দফায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলা এ লুটপাটে অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহনের যাত্রীরা আক্রান্ত হন।

এ ঘটনায় স্থানীয় যাত্রী ও বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁরা সড়কে নিয়মিত পুলিশি টহল, ডাকাতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা