মোঃ মিজানুর রহমান, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জে বাইসাইকেল ও মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মুক্তার হোসেন (৬০) নামে জেলা পরিষদের এক অফিস সহায়ক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের শোলাকিয়া এলাকার পপুলার হাসপাতালের সামনের মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মুক্তার হোসেন কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার বাসিন্দা। চাকরির সুবাদে তিনি জেলা শহরের শোলাকিয়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে রেখে গেছেন। তাঁর দুই মেয়ে অনার্সে পড়াশোনা করছেন। একমাত্র ছেলে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সকালেও বাইসাইকেল নিয়ে কর্মস্থলের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন মুক্তার হোসেন। শোলাকিয়া এলাকার পপুলার হাসপাতালের সামনের মোড়ে পৌঁছালে একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে তাঁর বাইসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর তিনি বাইসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর আশপাশের লোকজন দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে সেখানে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সহকর্মী ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। সংবাদ মাধ্যম
মুক্তার হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশের পাশাপাশি তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদ। পরিবারের আর্থিক সুরক্ষা ও প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি পরিষদের পক্ষ থেকেও বিশেষ সহযোগিতা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান।
জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান বলেন, “সকালে অফিসে আসার পথে তাঁর সাইকেলের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। প্রথমে তাঁকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারিভাবে যে সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা, তিনি তা পাবেন। পাশাপাশি জেলা পরিষদের পক্ষ থেকেও তাঁর পরিবারের জন্য বিশেষ সহযোগিতা করা হবে। এ ছাড়া বিআরটিএর পক্ষ থেকে যে আর্থিক সহায়তা পাওয়া যাবে, সেটিও তাঁর পরিবারকে দেওয়া হবে।”
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া দুর্ঘটনায় মুক্তার হোসেনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
