স্টাফ রিপোর্টার : জনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলা, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকরভাবে সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের জন্য শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ ‘Public Order Incident Response and Riot Control Training’। ১ থেকে ৫ নভেম্বর ২০২৬ খ্রি. পর্যন্ত বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে অনুষ্ঠিতব্য এ প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন ১১৮ জন প্রশিক্ষণার্থী। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ১১ জন বিসিএস কর্মকর্তা, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) ১০ জন সদস্য এবং আনসার ব্যাটালিয়নের ৯৭ জন সদস্য।
তুরস্কের জেন্ডারমেরি (Gendarmerie) বাহিনীর পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল এ প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছে। দলের নেতৃত্বে রয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্ক দূতাবাসের নিরাপত্তা, সহযোগিতা ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ক কাউন্সেলর জেন্ডারমেরি কর্নেল বোরো তাসদেলেন (Bora TASDELEN)। এ ছাড়া তুরস্কের জেন্ডারমেরি জেনারেল কমান্ডের তিনজন অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক এবং একজন দোভাষী প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন।
প্রশিক্ষণের প্রথম দিনে জেন্ডারমেরি ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট ওগুজহান কারাতাস (OGUZHAN KARATAS) পাঁচ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, পাঠ্যসূচি, প্রশিক্ষণ মডিউল ও পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন। প্রতিদিন ছয় ঘণ্টার এ প্রশিক্ষণে তাত্ত্বিক পাঠ, ব্যবহারিক অনুশীলন, বাস্তব পরিস্থিতিভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং অপারেশনাল কৌশলের প্রদর্শনীর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রথম দিনে বীর বিক্রম এলাহী বক্স অডিটোরিয়ামে তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। পরে মধ্যাহ্ন বিরতির পর একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ পরিচালিত হয়। এ সময় প্রশিক্ষণার্থীদের বিভিন্ন আত্মরক্ষামূলক কৌশল হাতে-কলমে শেখানো হয় এবং সংশ্লিষ্ট কৌশলের বাস্তব প্রদর্শনী উপস্থাপন করা হয়।
আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যদের বিদ্যমান পেশাগত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও অপারেশনাল সক্ষমতার সঙ্গে এ প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত আধুনিক কৌশল ও ব্যবহারিক জ্ঞানের সমন্বয় ঘটলে বাহিনীর সামগ্রিক প্রস্তুতি আরও সুদৃঢ় হবে। বিশেষ করে জনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলা, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ, আকস্মিক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সংকটকালীন পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে এ প্রশিক্ষণলব্ধ দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর ফলে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
