মোঃ মাহাবুবুর রহমান, ঢাকা : ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর অংশের ভোগড়া বাইপাস, কলম্বিয়া এবং বোর্ডবাজার এলাকায় তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, বোনাস ও বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে তীব্র আন্দোলন ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে।
আজকের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রস্তুতকৃত জাতীয় নিউজ প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো:
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ: ভোগড়া ও বোর্ডবাজারে শ্রমিক বিক্ষোভে তীব্র যানজট, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং বিভিন্ন অযৌক্তিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস, কলম্বিয়া এবং বোর্ডবাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক শ্রমিকরা। আকস্মিক এই আন্দোলনের ফলে মহাসড়কের উভয় দিকে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও দূরপাল্লার যানের যাত্রীরা।
ঘটনাস্থলের সার্বিক চিত্র:
আজ সকাল থেকেই বোর্ডবাজার ও কলম্বিয়া এলাকার বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা দলে দলে মহাসড়কে নেমে আসেন। এ সময় তারা সড়ক অবরোধ করে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্প পুলিশ, থানা পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিছু পয়েন্টে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়।
ভোগড়া বাইপাস ও কলম্বিয়া পয়েন্ট: এই দুই গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করায় ঢাকা ও ময়মনসিংহের মধ্যে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
বোর্ডবাজার এলাকা: স্থানীয় কারখানাগুলোর শ্রমিকেরা বকেয়া বেতনের দাবিতে সড়ক আটকে বিক্ষোভ করলে আশেপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে। মালিকপক্ষের সাথে আলোচনা করে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাসে শ্রমিকরা ধীরে ধীরে মহাসড়ক থেকে সরে যেতে শুরু করেন।
শ্রমিকদের দাবি:
বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রতি মাসের নির্দিষ্ট সময়ে বেতন পরিশোধ করা হলেও গত কয়েক মাস ধরে কারখানা কর্তৃপক্ষ টালবাহানা করছে। এছাড়া অনেককে বিনা নোটিশে ছাঁটাই করা হয়েছে এবং ওভারটাইমের বকেয়া টাকাও পরিশোধ করা হচ্ছে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
প্রশাসনের বক্তব্য:
শিল্প পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন জানায়, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কারখানা মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করে শ্রমিকদের পাওনাদি দ্রুত পরিশোধের ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
