জনতা ডেস্ক : বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় গ্রেফতার জেরিকা তাসনীম দিশার (১৯) আবারও তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এর আগে চারদিনের রিমান্ডে ছিলেন তিনি।
বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে দিশাকে আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ২৭ অক্টোবর রাতে নিহত তাহসিফের সঙ্গে উত্তরার নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে গিয়েছিলেন দিশা। এর আগে তারা একাধিকবার সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকসে গেছেন। মামলার অপর আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের (২৩) সঙ্গেও একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে দিশাকে একসঙ্গে দেখা গেছে। তাহসিফের সঙ্গে মোটরসাইকেলে বিভিন্ন স্থানেও ঘোরাঘুরি করেছেন তিনি।
আবেদনে আরও বলা হয়, তাহসিফের মোবাইল ফোনের কললিস্ট (সিডিআর) পর্যালোচনায় ঘটনার আগে দিশার সঙ্গে একাধিকবার ফোনে কথা বলার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে তাহসিফ হত্যাকাণ্ডে দিশার জড়িত থাকার তথ্যপ্রমাণ মিলেছে বলেও উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার, হত্যাকাণ্ডের স্থান নির্ধারণ এবং আলামত উদ্ধারের জন্য দিশাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অপর আসামি দীপের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে দিশার বক্তব্য মুখোমুখি যাচাই করার কথাও বলা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। রাতে দেরি হওয়ায় তার মা ফোন করলে কিছুক্ষণের মধ্যে বাসায় ফেরার কথা জানান তিনি। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফের ফোন থেকে মেসেঞ্জারে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠানো হয়, যাতে বলা হয়, ‘রওনা দিয়েছি, আসছি’। এরপর আর বাসায় ফেরেননি তিনি।
পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
এ ঘটনায় ৩০ অক্টোবর রাতে উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। পরে এ মামলায় দীপকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।
