চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার কুটুম্বপুর বাজারে মা ফার্মেসির কর্ণধার মহসিন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অপচিকিৎসা ও ভুল ইনজেকশন প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ হাসিনা বেগম (নাম) নামে এক নারীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এর আগেও তাঁর চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে ৪-৫ জন রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
নিহত হাসিনা বেগম কুটুম্বপুর গ্রামের বাসিন্দা জয়নালের মেয়ে এবং কুটুম্বপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য বিল্লাল মেম্বারের বোন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাসিনা বেগম বুকে ব্যথা অনুভব করলে রাতে ফোন করে তাঁকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় মহসিন ভূঁইয়া তাঁকে ইনজেকশন প্রয়োগ করেন। এর পরপরই তাঁর মৃত্যু হয়। তবে ইনজেকশন প্রয়োগের সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো চিকিৎসাগতভাবে নিশ্চিত হয়নি। এ বিষয়ে ময়নাতদন্ত, চিকিৎসার নথি ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই জরুরি।
৭ লাখ টাকায় সমঝোতার গুঞ্জন
হাসিনা বেগমের মৃত্যুর পর ঘটনাটি অর্থের বিনিময়ে মীমাংসা করা হয়েছে বলেও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। স্থানীয়ভাবে প্রায় ৭ লাখ টাকার আর্থিক সমঝোতার গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে এ লেনদেনের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। ফলে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি নিষ্পত্তির অভিযোগ কতটা সত্য, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
আগের মৃত্যুর অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে চিকিৎসার বৈধতা
স্থানীয়দের অভিযোগ, মহসিন ভূঁইয়ার চিকিৎসাসেবা নিয়ে আগেও একাধিকবার অসন্তোষ ও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তাঁর হাতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে আরও ৪-৫ জনের মৃত্যুর অভিযোগও করছেন কেউ কেউ। তবে এসব মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, চিকিৎসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা কিংবা কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ রয়েছে কি না, তা এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রশ্ন উঠেছে, মহসিন ভূঁইয়ার প্রকৃত চিকিৎসাগত যোগ্যতা কী? তিনি কোন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে কী ধরনের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন? ওষুধ ও ইনজেকশন প্রয়োগের ক্ষেত্রে তাঁর আইনগত এখতিয়ার কতটুকু? এসব বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা দাবি
একজন নারীর মৃত্যুর ঘটনায় অপচিকিৎসা ও ভুল ইনজেকশন প্রয়োগের অভিযোগ ওঠার পরও বিষয়টি যদি কেবল ব্যক্তিগত সমঝোতায় সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে জনস্বাস্থ্য ও রোগীর নিরাপত্তার প্রশ্নটি উপেক্ষিত থেকে যাবে।
স্থানীয়দের দাবি, হাসিনা বেগমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধের নথি পরীক্ষা এবং মা ফার্মেসির কার্যক্রম ও মহসিন ভূঁইয়ার চিকিৎসাগত যোগ্যতা যাচাই করতে হবে। আগের মৃত্যুর অভিযোগগুলোরও পৃথকভাবে অনুসন্ধান প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
চিকিৎসাসেবার নামে কারও জীবন ঝুঁকিতে পড়েছে কি না, তা নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের। হাসিনা বেগমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ এখন এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।
