মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রভাবে বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানিয়েছে, ২০২৬ সালের এপ্রিলে তাদের বৈশ্বিক খাদ্যমূল্য সূচক গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ শতাংশ বেড়ে ২০২৩ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। খবর আল-জাজিরার।
এফএওর তথ্যমতে, ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। এর ফলে জৈবজ্বালানি শিল্পে বীজ তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা খাদ্যতেলের বাজারেও চাপ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বীজ তেলের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কাও বাজারে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে সারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম ০.৮ শতাংশ বেড়েছে। উৎপাদন ব্যয় বাড়তে থাকায় কৃষকদের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
এফএও সতর্ক করে বলেছে, সারের উচ্চমূল্যের কারণে অনেক গম চাষি কম সার-নির্ভর ফসলের দিকে ঝুঁকতে পারেন। এতে বৈশ্বিক বাজারে গমের সরবরাহ কমে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতে এই শস্যের দাম আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্য ও জ্বালানি—উভয় বাজারেই অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে বিশ্বের নিম্ন ও মধ্যআয়ের দেশগুলোর ওপর সবচেয়ে বেশি।
