বৃহস্পতিবার | সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
প্রচ্ছদ বিশ্ব ট্রাম্পের হামলা স্থগিতের ঘোষণায় কমল তেলের দাম

ইরান যুদ্ধ

ট্রাম্পের হামলা স্থগিতের ঘোষণায় কমল তেলের দাম

ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপরপরই সোমবার (১৮ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে গেছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গালফ অঞ্চলের কয়েকটি দেশের অনুরোধে মঙ্গলবারের জন্য পরিকল্পিত হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে বলে ট্রাম্প জানান। এরপর বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলার থেকে নেমে ১০৯ ডলারে দাঁড়ায়। সোমবার দিনজুড়ে তেলের বাজারে ব্যাপক ওঠানামা দেখা যায়। এর আগে সপ্তাহান্তে ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে এবং যুদ্ধ বন্ধের আলোচনাগুলো কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে কার্যত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে শুরু হয় অস্থিরতা। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই সংকীর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

ফলে শান্তি আলোচনার অগ্রগতি বা ব্যর্থতার যেকোনো ইঙ্গিতেই দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে তেলের বাজার। এরই জের ধরে সোমবার দিনের শুরুতে তেলের দাম বাড়ে। ওই সময় ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ‘ইরানকে দ্রুত এগোতে হবে, না হলে তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ গত সপ্তাহেও ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। তিনি ইরানের দাবিগুলোকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলেও মন্তব্য করেন।

এদিকে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান নিয়ে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাব্য বিকল্পগুলো আলোচনা করতে মঙ্গলবার ট্রাম্প তার শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। তবে পরে তেলের দাম আবার কমতে শুরু করে, যখন ইরানের একটি সংবাদ সংস্থা জানায় যে আলোচনার সময় ইরানের অপরিশোধিত তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক ছাড় দিতে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে। এতে শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির আশা তৈরি হয়।

এরপর সোমবার রাতে ট্রাম্প জানান, গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা এখন চলছে। কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতারা তাকে মঙ্গলবারের হামলা স্থগিত রাখার অনুরোধ করেছেন। তাকে জানানো হয়েছে এমন একটি সমঝোতা হতে যাচ্ছে যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুবই গ্রহণযোগ্য হবে। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ইরানের জন্য কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়।’ তবে তিনি সতর্ক করে দেন, গ্রহণযোগ্য চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী যেকোনো মুহূর্তে পূর্ণমাত্রার বড় হামলা চালাতে প্রস্তুত থাকবে। এ বিষয়ে ইরান এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।

সংঘাত শুরুর পর থেকে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন দেশের সরকারি ঋণগ্রহণ ব্যয়ও বেড়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, জ্বালানির দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতি আরও বৃদ্ধি পাবে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হতে পারে।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার একপর্যায়ে ৪.৬৩ শতাংশে পৌঁছায়, যা এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সময়ে জাপানের সরকারি বন্ডের সুদহারও বেড়ে যায়। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধজনিত অর্থনৈতিক ধাক্কা মোকাবিলায় অতিরিক্ত বাজেটের অর্থ জোগাতে জাপান নতুন ঋণ ইস্যুর পরিকল্পনা করছে।

ফলে দেশটির ৩০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদহার রেকর্ড ৪.২ শতাংশে পৌঁছায় এবং ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদহার ১৯৯৬ সালের পর সর্বোচ্চ ২.৮ শতাংশে ওঠে। ইউরোজোনের বন্ডের সুদহারও দিনের শুরুতে বাড়লেও পরে তেলের দাম কমায় কিছুটা নেমে আসে।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা