বৃহস্পতিবার | সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ পরিবারের দাবী জিনের আচরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে

আমতলীতে শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু!

পরিবারের দাবী জিনের আচরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে

এসএম সুমন রশিদ,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:
আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া দারুচ্ছুন্নাত ছালেহিয়া দ্বীনিয়া মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্র মোঃ মোস্তাকিম বিল্লাহ লিমনের (১২) রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবী জিনের আচর থাকায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ঘটনা ঘটেছে বুধবার বিকেলে।
জানাগেছে, আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া বাজার সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মোঃ সোহেল মিয়ার ছেলে মোঃ মোস্তাকিম বিল্লাহ লিমন দারুচ্ছুন্নাত ছালেহিয়া দ্বীনিয়া মাদ্রাসায় ষষ্ঠ শ্রেনীতে লেখাপড়া করে। গত ফেব্রুয়ারী মাস থেকে লিমন মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ করে দেয়। বুধবার দুপুরের খাবার খেতে মা তাকে ডাক দেয় কিন্তু তার খোঁজ মিলছে না। ওইদিন বিকেলে তাকে ঘরের আড়ার সঙ্গে রশি পেচিয়ে ফাঁস দেয়া অবস্থায় দেখতে পায়। পরে লিমনের চাচা শামিম ফাঁস দেয়া থেকে তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। ওই হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ নাজমুল হাসান রাহাত শিশুটিকে মৃত্যু ঘোষনা করেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। পরিবারের দাবী শিশু লিমনকে গত চার মাস আগে জিনের আচর লাগে। এরপর থেকে বেশ কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। কিন্তু শিশুটির গলায় ফাঁস দেয়ার তেমন আলামত নেই বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী।
নিহত শিশুর চাচা শামিম মিয়া বলেন, ঘরের আড়ার সঙ্গে রশি পেচিয়ে গলায় ফাঁস দেয়া থেকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্ব্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি। ওই হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষনা করেছেন।
আড়পাঙ্গাশিয়া দারুচ্ছুন্নাত ছালেহিয়া দ্বীনিয়া মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আসাদুজ্জামান বলেন, চারমাস আগে থেকে মোস্তাকিম বিল্লাহ মাদ্রাসায় আসে না। কয়েকদিন আগে ওর বাবা মাদ্রাসায় পাঠানোর কথা বলেছেন কিন্তু আজ শুনতে পাচ্ছি মারা গেছে। বিষয়টি স্পর্শকাতর।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ নাজমুল হাসান রাহাত বলেন, শিশুটিকে হাসপাতালে আনার আগেই মারা গেছেন।
আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতাল থেকে থানায় আনা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা