এইচ এন আলম, কক্সবাজার, প্রতিনিধি : বঙ্গোপসাগরের অব্যাহত ভাঙনে ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া। একের পর এক বসতভিটা, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও স্থাপনা বিলীন হচ্ছে সাগরে। ঝুঁকিতে পড়েছে দ্বীপ রক্ষার প্রধান অবকাঠামো বেড়িবাঁধ।
এতে দেড় লক্ষাধিক মানুষের জীবন-জীবিকা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর শঙ্কা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক দশক আগেও কুতুবদিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছিল বসতি ও কৃষিজমি। কিন্তু ধারাবাহিক ভাঙনে অনেক গ্রাম ও জনপদ এখন সাগরের অংশ। জোয়ারের পানি বাড়লেই আতঙ্কে থাকেন উপকূলের মানুষ।
চলতি বছরের জুলাইয়েও দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। রোমাইপাড়া থেকে আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের সাইটপাড়া পর্যন্ত উপকূলের প্রায় দেড় কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
তাবলেরচর, কাহারপাড়া, রোমাইপাড়া, সাইটপাড়া ও কাজিরপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঝুঁকিপূর্ণ অংশে জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য বড় ধরনের প্রকল্প প্রয়োজন। কুতুবদিয়াকে রক্ষায় ‘সুপার ডাইক’ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বেড়িবাঁধ মেরামত করে কুতুবদিয়ার সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।
উপকূলীয় ভাঙন, জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা, কৃষি ও মানুষের জীবিকা—সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনা নিতে হবে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে আরও বড় এলাকা সাগরে বিলীন হতে পারে। তখন শুধু ঘরবাড়ি নয়, কুতুবদিয়ার অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে।
