শনিবার | সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
প্রচ্ছদ অগ্নিকাণ্ডের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন বেঁচে ফেরা বাংলাদেশিরা

কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে

অগ্নিকাণ্ডের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন বেঁচে ফেরা বাংলাদেশিরা

কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আটকে পড়েন সেখানে থাকা বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি পর্যটক। এই ঘটনায় আট বাংলাদেশিসহ নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন হোটেল থেকে বেঁচে ফেরা বাংলাদেশিরা।

ঢাকার বাসিন্দা মুস্তাফিজুর রহমান তার বাবার চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসেছিলেন। আগুন লাগার সময় তিনি বাবাকে নিয়ে শিখা-ইন হোটেলেই অবস্থান করছিলেন। ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় তারা নিরাপদে হোটেল থেকে বের হতে সক্ষম হন।

ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে মুস্তাফিজুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি এবং আমার বাবা হোটেলে ঘুমিয়ে ছিলাম। রাত ৩টার দিকে বুঝতে পারি আগুন লেগেছে। পরে গেট খুলে দেখি চারদিকে অনেক ধোঁয়া। এরপর ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে আমাদের দ্রুত বের হয়ে যেতে বলেন। তারা আমাকে ও আমার বাবাকে তাড়াতাড়ি নিচে নামিয়ে আনেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অনেক আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। ধোঁয়ার কারণে ঠিকমতো শ্বাস নিতে পারছিলাম না। ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা নিয়ে নিচে নেমে আসি।’

ঢাকার আরেক বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ জানান, রাত ৩টার দিকে হঠাৎ চিৎকার শুনতে পান। তার ছেলে ঘরের দরজা খুলতেই চারপাশ ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে তাদের উদ্ধার করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি হাঁটতে পারি না। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আমাকে ধীরে ধীরে নিচে নামিয়ে আনেন।’

ঢাকার বাসিন্দা ফাতেমা তার ছোট ছেলের চিকিৎসা করাতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কলকাতায় এসেছিলেন। চিকিৎসার পাশাপাশি কলকাতায় ঘোরার পরিকল্পনাও ছিল তাদের।

সেই ভয়াবহ রাতের কথা বলতে গিয়ে বারবার চোখে পানি চলে আসছিল ফাতেমার। চোখের পানি মুছে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার ছেলের চিকিৎসা করাতে এবং ঘুরতে এসেছি কলকাতায়। যারা ঘুমিয়ে ছিল, তারা সেভাবেই ছিল। আজই ডাক্তার দেখানোর কথা ছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যে ছাদে ছিলাম, সেখানে প্রায় ১৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন। সে সময় আমরা নিচে নামতে পারছিলাম না। চিৎকার করে বলছিলাম—আমাদের বাঁচান, কে কোথায় আছেন, আমাদের বাঁচান। আমার ছেলেটাকে, খালাকে বাঁচান। তখন সবাই উঠে বলছিলেন, আমরা আছি, চিন্তা করবেন না। দেখি কী করা যায়।’

ফাতেমা আরও বলেন, ‘পরে একজন এসে বলেন, নিচে নামা যাবে না। এরপর টর্চের আলো জ্বালিয়ে আমরা ওপরে উঠি। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আমাদের নিচে নামান।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, জরাজীর্ণ পুরোনো একটি আবাসনে হোটেলটি পরিচালিত হচ্ছিল। সেখানে অগ্নিনিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এরই মধ্যে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ তদন্ত দল (SIT) গঠন করে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

সূত্র : জাগোনিউজ২৪

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা