রিয়াজ উদ্দিন, কক্সবাজার: কক্সবাজারে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির শাখায় হঠাৎ করেই গ্রাহকদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। বিশেষ করে টাকা উত্তোলনের জন্য সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় নারী-পুরুষ গ্রাহকদের। ব্যাংকের কাউন্টারগুলোতে ছিল অতিরিক্ত চাপ, আর কর্মকর্তাদের ঘিরে উদ্বিগ্ন গ্রাহকদের জটলা।
রোববার ব্যাংকের কক্সবাজার শাখা ঘুরে দেখা যায়, অনেক গ্রাহক তাদের আমানতের টাকা দ্রুত উত্তোলনের চেষ্টা করছেন। গ্রাহকদের একাংশের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্ক এবং বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবরের কারণে তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক কার্যদিবসে সারা দেশে ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি আমানত উত্তোলন করা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র একদিনেই প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা উত্তোলনের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।
তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, এটি কোনো বড় ধরনের তারল্য সংকট নয়; বরং গ্রাহকদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগ ও গুজবের প্রভাবেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আলতাফ হোসেন গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আমানতকারীদের অর্থ নিরাপদ রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা উত্তোলনে কোনো বাধা নেই।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রয়োজন হলে তারল্য সহায়তা দেওয়া হবে এবং গ্রাহকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।
এদিকে কক্সবাজারে এর আগেও ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা ব্যাংকের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও পরিস্থিতি নিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছিলেন। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের কারণে নতুন করে আমানতকারীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংকিং খাতে অনেক সময় প্রকৃত টাকার সংকটের চেয়ে আস্থার সংকটই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। গ্রাহকদের মধ্যে একবার অনিশ্চয়তা তৈরি হলে দ্রুত অর্থ উত্তোলনের প্রবণতা দেখা দেয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসলামী ব্যাংকের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা।
