পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার শাপলেজা বাজারের শাপলা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ২ ভুয়া ডাক্তারকে তিন মাসের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে মঠবাড়িয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সুদীপ্ত দেবনাথ উপজেলার সাপলেজা বাজারের শাপলা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে উভয়কে তিন মাসের কারাদণ্ড দেন।
দণ্ডিতরা হলেন- ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কথিত ডাক্তার বরগুনা জেলার ফুলঝুরি এলাকার
বাসিন্দা মোঃ আবু হুরাইয়া (৩৭) ও তার সহযোগী ডাক্তার পরিচয়দানকারী ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্হাপক শাপলেজা এলাকার মোঃ মনিরুল আলম(৪৮)।
কথিত ডাক্তার মোঃ আবু হুরাইয়া ও তার সহযোগী মনিরুল দুজনেই প্যারামেডিকেল ডিগ্রিধারী দাবি করে প্রতি মঙ্গলবার সাধারন রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিয়ে আসছিলেন।বভ্রাম্যমান আদালত সূত্রে জানা যায়, বরগুনা জেলার ফুলঝুরি এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আবু হুরায়রা ডাক্তার পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে আসছে। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকালে তার কাছে প্রয়োজনীয় নিবন্ধন সনদ ও বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাইলে
ডাক্তার পরিচয় দেয়া আবু হুরায়রা বৈধ কোন সনদ ও কাগজ দেখাতে পারেনি। এ সময়ে তার সহযোগী ডাক্তার পরিচয়দানকারী শাপলেজা এলাকার মোঃ মনিরুল ইসলাম সেও বৈধ কোন সনদ দেখাতে পারেনি। তাই আদালত তাদের দুজনকেই
আটক করে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০-এর ২৯(২) ধারা অনুযায়ী উভয়কে তিন মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত দেবনাথ বলেন, “জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবৈধ ও ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।” তিনি চিকিৎসাসেবা গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের নিবন্ধন ও যোগ্যতা যাচাই করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের অভিযান ভুয়া চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
