শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
প্রচ্ছদ বিনোদন নীলফামারীতে চীনা নাগরিকের ১০ লাখ টাকার চুক্তিতে বিয়ে ফেসবুকে আলোচনা সমালোচনা

নীলফামারীতে চীনা নাগরিকের ১০ লাখ টাকার চুক্তিতে বিয়ে ফেসবুকে আলোচনা সমালোচনা

এন.এম হামিদী বাবু নীলফামারীঃ নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেড এলাকায় কর্মরত এক চীনা নাগরিকের সঙ্গে স্থানীয় এক তরুণীর ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে ৩ বছরের চুক্তিতে বিয়ে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, বিয়েটি আইনিভাবে আদালতের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে; চুক্তির বিষয়টি তাদের জানা নেই।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত ১০ জুন কোর্ট এফিডেভিটের (হলফনামা) মাধ্যমে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করেন। নীলফামারী সদর উপজেলার সংগলশী এলাকার বাসিন্দা জুয়েল হোসেনের মেয়ে মোছাঃ মাইশা আক্তার জুই এর সঙ্গে চীনা নাগরিক লিয়াউ বেইরু ছেলে মিস্টার লিয়াউ জিচুন ( বর্তমান নাম নুর মোহাম্মদ) কোর্ট এফিডেভিটের মাধ্যমে মুসলিম ধর্মগ্রহন করে ৩ লাখ ২৫১ টাকা দেনমোহরের মাধ্যমে নগদ ৫ হাজার টাকা দিয়ে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। জুই উত্তরা ইপিজেডের ‘মেইগো বিডি লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। সেখানে কর্মরত এক ব্যক্তির মাধ্যমে ওই চীনা নাগরিকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে কোর্ট এফিডেভিটের (হলফনামা) মাধ্যমে পারিবারিকভাবে ১৮ জুন বিয়ের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তুলে দেওয়া হয়।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিয়ের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে কনেকে মাইক্রোবাসে ওঠার সময় কাঁদতে দেখা যায়। এরপরই নেটিজেনদের একাংশ দাবি করতে শুরু করেন, এটি কোনো স্বাভাবিক বিয়ে নয়, বরং ৩ বছরের জন্য ১০ লাখ টাকার একটি চুক্তি। এই নিয়ে ফেসবুকে নানা নেতিবাচক মন্তব্য ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে অনেককে।
অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে, বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে বিয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও সরকারি বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
কনে মাইশা আক্তার জুই এর বাবা জুয়েল হোসেন এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি ফোনে কোনো তথ্য দিতে পারব না।
নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, থানায় এই বিষয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি, তারা কোর্ট এফিডেভিটের (হলফনামা) মাধ্যমে বিয়ে করেছেন। ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে তিন বছরের চুক্তিতে বিয়ের বিষয়টি আমাদের জানা নেই। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা