পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের নতুন ও পুরাতন পাঠ্যবই ও খাতা পৌর শহরের উত্তর মিঠাখালীর আরাফাত মঞ্জিল-এর সামনে থেকে বইভর্তি একটি ট্রাক জব্দ করে থানায় দিয়েছে মঠবাড়ীয়া উপজেলা প্রশাসন।
অপর দিকে মামলা ভয়ে রবিবার (২৮ জুন) উপজেলার সরকারি হাতেম আলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আখতার হোসেন মামলা থেকে রেহাই পেতে সরকারি বই বিক্রির ৯ হাজার টাকা
ট্রজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে সোনালী ব্যাংক মঠবাড়িয়া শাখায়। বিষয়টি প্রধান শিক্ষক রবিবার রাত দশটার দিকে নিশ্চিত করেছেন।
বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি পাঠ্যবই বিক্রি করা সম্পূর্ণ আইনবিরোধী ও দন্ডনীয় অপরাধ।এঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হলে সাময়িক বরখাস্ত, মামলা ও গ্রেফতার হতে পারেন প্রধান শিক্ষক।
এ প্রসন্গে প্রধান শিক্ষক মোঃ আখতার হোসেন জানান, ফ্যাসিস্ট সরকার আমলের পুরনো বই গুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। বই ৪ হাজার ২ শত টাকা এবং খাতা ও অন্যান্য কাগজ ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। বই গুলো
বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানাগারে সংরক্ষিত ছিল। বিজ্ঞানাগার পরিস্কার করার জন্য পুরনো বই খাতা বিক্রি করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন,বইয়ের পিছনের কভাবে লেখা ছিল “শিক্ষা নিয়ে গড়বো দেশ শেখ হাসিনার বাংলাদেশ। এই বই স্কুলে রেখে জায়গা আটকিয়েতো লাভ নেই। কারিকুলাম পরিবর্তন হওয়ায় বই গুলি ভাঙারির দোকান ছাড়া আর কোন কাজে আসবেনা। তাই কেজি দরে বই বিক্রি করে ফেলেছি।
বই বিক্রির টাকা আমার পকেটে ডুকাইনি। ওই টাকা দিয়ে শিক্ষকদের নাস্তাসহ চা,বিস্কুট খাওয়াইছি। স্কুলের পিয়নদের দিয়ে বিজ্ঞানাগার পরিস্কার করাইছি,বই বিক্রির টাকা তাদেরকেও দিয়েছি।
উল্লেখ্য শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে মঠবাড়িয়ার ভাঙারির একটি দোকান থেকে সরকারি বই ট্রাকে বোঝাই দেওয়া হয়। এ দৃশ্য স্থানীয়দের নজরে আসলে তারা প্রশাসন ও স্হানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের অবগত করেন। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত দেবনাথ ট্রাক সহ বইগুলো জব্দ করেন।
এ প্রসঙ্গে মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আকলিমা আক্তার বলেন, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যালয়ে বই দেওয়া হয়, তাই অতিরিক্ত বই থাকার কথা নয়। আর যদি অতিরিক্ত বই থেকে থাকে, তবে তা বিক্রি করতে হলে উপজেলা কমিটিকে অবহিত করে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করতে হবে। প্রধান শিক্ষক বই বিক্রির বিষয়ে আমাকে কিছুই জানাননি। সহকারী কমিশনারের (ভূমি) প্রতিবেদন পাওয়ার পর কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
