শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
প্রচ্ছদ ধান-চাল সংগ্রহ ব্যহত

সিরাজগঞ্জে খাদ্য গুদামগুলোতে পাটের বস্তার তীব্র সংকট

ধান-চাল সংগ্রহ ব্যহত

মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ থেকে : চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অপ্রতুল হওয়ায় সিরাজগঞ্জ খাদ্য গুদামগুলোতে পাটের বস্তার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে এবারের বোরো মৌসুমে ধান চাল সংগ্রহ ব্যহত হচ্ছে।

কৃষক আব্দুর রহমান এসেছিলেন ধান দিতে চান্দাইকোনা খাদ্য গুদামে। ধান না দিয়েই ফেরত চলে যাচ্ছেন। কথা হয় তার সাথে। ফিরে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে চোখ মুখে হয়রানির ভাজ ও অনিহার ছাপ নিয়ে তিনি অনেকগুলো কারণ জানান। তার মধ্যে বস্তার বিষয়ে কাঁদো কাঁদো কন্ঠে তিনি বলেন, গুদামে নাকি কোনো বস্তা নেই। ৩ দিন পর আসতে হবে। অথবা আমার বস্তাগুলো রেখে যেতে হবে। গুদাম কর্মকর্তার আজগবি সব নিয়ম ও অজুহাতের কারণে ধান ফেরত নিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছি।

রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা খাদ্য গুদামের দায়িত্বরত খাদ্য পরিদর্শক তন্ময় বিশ্বাস বলেন, এবার বোরো মৌসুমে ধান চাল সংগ্রহে বরাদ্দ অনুযায়ী ধানের জন্য ৫০ কেজির প্রায় ৪০ হাজার ও চালের ৩০ কেজির প্রায় ৪ লাখ ৪ হাজার ছালার বস্তা প্রয়োজন। তবে, বস্তার চাহিদা মতে বরাদ্দ একেবারে অপ্রতুল হওয়ায় ধান চাল সংগ্রহ করতে সমস্যা হচ্ছে। বস্তার অভাবে ঠিকমতো কৃষক ও মিলারদের নিকট থেকে ধান চাল কিনতেও পারছি না।

কাজিপুর খাদ্য গুদামের দায়িত্বরত খাদ্য পরিদর্শক ওয়ালিউর রহমান বলেন, ৫০ কেজি ও ৩০ কেজি মিলে ১৫ হাজার বস্তার চাহিদা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো বরাদ্দ না দেওয়ায় ধান চাল কিনতে পারছি না। পুরাতন, ছেঁড়া – ফাটা বস্তা ও ধার দেনা বা সমন্বয় করে কোনো রকমে ধান চাল কিনতে হচ্ছে।

উল্লাপাড়া উপজেলার খাদ্য গুদামের খাদ্য পরিদর্শক মিজানুর রহমান বলেন, এ মৌসুমে ধান চাল সংগ্রহ করতে ৫০/৩০ কেজির মোট প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার বস্তা প্রয়োজন। বরাদ্দ অপ্রতুল থাকায় নিজ জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও অন্য জেলা থেকেও সমন্বয় করে খুব কষ্টে ধান চাল সংগ্রহ করা হচ্ছে।

জেলা খাদ্য বিভাগ সুত্র জানায়, এবার জেলার ৯টি উপজেলার ১০টি সরকারি খাদ্য গুদামের মাধ্যমে ১৪ হাজার ১৩৫ মে, টন ধান, ২৫ হাজার ৪৮৭ মে, টন সিদ্ধ চাল, ২৮২ মে, টন আতব চাল ও ৬৫৯ মে, টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের। লক্ষ্য মাত্রা পুরণে বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে প্রধান সমস্যার অন্তরায় এখন ৫০/৩০ কেজির ছালার বস্তা। ছালার বস্তার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

গুদামগুলোতে পাটের বা ছালার বস্তার কোনো সংকট নেই বলে জানালেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ।

এদিকে জেলার খাদ্য গুদামগুলোতে ধান চাল সংগ্রহের জন্য এ বছর পাটের বা ছালার বস্তার চাহিদা, বরাদ্দ প্রাপ্ত ও ছালা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য চাওয়া হলে তালবাহানা করে তিন দিন ঘুরিয়ে শেষে তথ্য না দিয়ে এ কর্মকর্তা আরও বললেন, অধিদপ্তরের নির্দেশ মতে, নিজ জেলাসহ দেশের যে কোনো জায়গা থেকে সমন্বয় বা মিলতালে বস্তা দিয়ে ধান চাল সংগ্রহ করা হচ্ছে। ছেঁড়া ফাটা ও পঁচা বস্তার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান। তবে, রিপোর্টটি যাতে না হয় তার জন্য বিভিন্নভাবে অনুরোধও আসে।

 

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা