শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বসত-বাড়িতে হামলা ভাংচুর, আহত ১

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বসত-বাড়িতে হামলা ভাংচুর, আহত ১

শিবচর (মাদারীপুর) থেকে শাখাওয়াত হোসেন মোল্লা : মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হুদু মোল্লার কান্দীর সাদ্দাম মোড়লের বসতবাড়িতে আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিক মাদবরের নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর,লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিএনপি নেতা স্বপন ঢালীর নামে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের হুদু মোল্লার কান্দীতে সাদ্দাম মোড়ল, দেলোয়ার মোড়ল ও জাহাঙ্গীর মোড়লের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় দুটি মোটরসাইকেল ও তিনটি বসতঘর ভাঙচুর করা হয়। একটি ঘরে ঢুকে আলমারি ভেঙে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগীদের দাবি, উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আতিক মাদবরের নেতৃত্বে লোকজন নিয়ে এ হামলা চালানো হয়। হামলাকারীদের হাতে দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, রামদা ও টেঁটা ছিল বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এ সময় নিহত সুলতান মোড়লের স্ত্রীকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় এবং তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।

ভুক্তভোগী দেলোয়ার মোড়ল বলেন,আমরা আগে আতিক মাদবরের সঙ্গে রাজনীতি করতাম। তাঁর কিছু কর্মকাণ্ডের কারণে এখন আর তাঁর সঙ্গে রাজনীতি করি না। বর্তমানে আমরা বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এ কারণে তিনি আমাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করেছেন। আমরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচার দাবি করছি।

হামলায় আহত স্বপন ঢালি বলেন, আমি আমার মামাতো ভাইয়ের বাসার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এ সময় হামলাকারীরা অতর্কিতভাবে আমার ওপর হামলা চালায়। এতে আমার মাথা ফেটে যায় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। আমি এ হামলার বিচার চাই।

শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডিউটি অফিসার জানান, আহত স্বপন ঢালির মাথায় তিনটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। মাথায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হলেও বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর কুতুবপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত বেপারী বংশ ও মাদবর বংশের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এর পরদিন ১৭ সেপ্টেম্বর সাদ্দাম মোড়ল নামে বিএনপির এক কর্মীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিক মাদবরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন,কুতুবপুরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় এলাকায় পুলিশের একাধিক টিম রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা