কক্সবাজার প্রতিনিধি: টানা ভারী বর্ষণে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে এক রাতেই ঘটেছে মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা। পৃথক চারটি স্থানে পাহাড়ধসে নারী ও শিশুসহ অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। রোববার (৫ জুলাই) দিবাগত রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে বালুখালী, কুতুপালং ও জামতলী (ক্যাম্প-১৫) আশ্রয়শিবিরে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবীরা রাতভর যৌথ উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ভোর পর্যন্ত আটজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় এসব ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী পরিবারগুলো এখনো চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
নিহতদের মধ্যে জামতলী ক্যাম্প-১৫-এর ডি-৬ ব্লকে একই পরিবারের তিনজন—কামাল হোসাইন (৪৪), তাঁর স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং চার বছরের ছেলে মোহাম্মদ আনাস রয়েছেন। কুতুপালং ক্যাম্প-৭-এর ডি-৭ ব্লকে পাহাড়ধসে প্রাণ হারায় সাত বছরের শিশু মোহাম্মদ একরাম।
এদিকে বালুখালী ক্যাম্প-১১-এর সি-১১ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসে একই পরিবারের চারজন নিহত হন। তারা হলেন উম্মে হাবিবা (২৭), তাঁর বোন তানজিনা আক্তার (১৩), ভাই হারুনুর রশিদ (৩) এবং মোহাম্মদ রিহান (৫)।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কক্সবাজার অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী দুই দিনও এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
প্রতি বর্ষা মৌসুমেই উখিয়া ও টেকনাফের পাহাড়ঘেরা রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ২০১৭ সালে গড়ে ওঠা এসব ক্যাম্পের অধিকাংশ আশ্রয়কেন্দ্র পাহাড়ের ঢালে নির্মিত হওয়ায় সামান্য অতিবৃষ্টিতেই বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং দুর্যোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
৭৭
