শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
প্রচ্ছদ অসমের চিকিৎসা ক্ষেত্রে অপূরণীয় ক্ষতি

অসমের চিকিৎসা ক্ষেত্রে অপূরণীয় ক্ষতি

ডিব্রুগড় প্রতিনিধি: অসমের চিকিৎসা জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করে প্রখ্যাত চিকিৎসক, অসম মেডিক্যাল কলেজ (এএমসি)-এর মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এবং রাজ্যের অন্যতম সম্মানিত শিক্ষক ডা. গিরীন্দ্র নাথ গগৈ গতকাল সন্ধ্যায় ৭৮ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন। গত কিছুদিন ধরে তিনি অসুস্থতা ও কিডনি-সংক্রান্ত রোগে ভুগছিলেন এবং তাঁরই প্রতিষ্ঠিত ‘ম্যাকউইন্স’ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ১৯৪৮ সালের ৪ এপ্রিল শিবসাগর জেলার শিমলুগুড়ির রামু গ্রামে জন্মগ্রহণকারী ডা. গগৈর শিক্ষাজীবন ছিল অত্যন্ত উজ্জ্বল। শৈশব থেকেই অসাধারণ মেধার পরিচয় দিয়ে তিনি হাইস্কুল ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় সমগ্র অসমে স্থান অর্জন করেছিলেন। ১৯৬৭ সালে এমবিবিএস পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করার পর তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে এমডি ডিগ্রি লাভ করেন।তিনি শুধু একজন সফল চিকিৎসকই ছিলেন না, চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রেও ছিলেন একজন অনন্য শিক্ষক, পথপ্রদর্শক এবং মেন্টর। এম বি বি এস ও এমডি—উভয় পর্যায়েই সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি শিলচরে চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর নিখুঁত রোগ নির্ণয়ের দক্ষতা, ক্লিনিক্যাল পারদর্শিতা এবং মানবিক আচরণের জন্য তিনি বরাক ও ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার অন্যতম জনপ্রিয় চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। ১৯৯৬ সালে তিনি ডিব্রুগড়ের অসম মেডিক্যাল কলেজে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখে যান। তাঁর তত্ত্বাবধানে ও প্রশিক্ষণে অসমের বহু বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ গড়ে উঠেছেন এবং বর্তমানে চিকিৎসা ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত। তাঁর স্ত্রী ইনুমা গগৈ জানান, তাঁর পড়ানো বহু ছাত্র-ছাত্রী আজ দেশ-বিদেশে উচ্চপদে কর্মরত। কিছুদিন আগে তাঁরা অস্ট্রেলিয়া সফরে গেলে সেখানে ডা. গগৈর অনেক প্রাক্তন ছাত্র তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁর আশীর্বাদ গ্রহণ করেন। অত্যন্ত বিনয়ী ও অমায়িক ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ডা. গগৈর প্রয়াণের সংবাদ সমগ্র চিকিৎসক সমাজকে শোকাহত করেছে। চিকিৎসক সমাজে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে মৃত্যুর আগের দিনই গুজরাট, বেঙ্গালুরুসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাতজন চিকিৎসক ডিব্রুগড়ে এসে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং চিকিৎসায় অংশগ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, গত ১ জুলাই চিকিৎসক দিবস উপলক্ষে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ)- এর ডিব্রুগড় শাখা চিকিৎসা ক্ষেত্রে তাঁর আজীবন অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে ‘শ্রেষ্ঠ চিকিৎসক’ সম্মানে ভূষিত করেছিল। ধার্মিক, সাদাসিধে ও মানবদরদী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ডা. গিরীন্দ্র নাথ গগৈর মৃত্যুতে আইএমএ ডিব্রুগড় শাখার সভাপতি ডা. গৌরী শংকর বরগোহাই, সম্পাদক ডা. মৃগাঙ্ক বরুয়া, সহকর্মী চিকিৎসক ডা. নারায়ণ উপাধ্যায়, অসম মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সঞ্জীব কাকতি, ডিব্রুগড়ের বিধায়ক প্রশান্ত ফুকন, অসম পর্যটন উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান ঋতুপর্ণ বরুয়া, ডিব্রুগড় লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল, বৃহত্তর ডিব্রুগড় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মনজিৎ বরা, সম্পাদক রাতুল বুড়াগোহাই-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।

অসমের চিকিৎসা জগতে তাঁর অবদান চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে বিভিন্ন মহল মত প্রকাশ করেছে।মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র, এক কন্যা, পুত্রবধূ, জামাতা, তিন নাতনি, দুই নাতি, এক বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন। আজ অসংখ্য গুণমুগ্ধ মানুষের উপস্থিতিতে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা