এস.এম.নাহিদ : রাজধানীর খিলক্ষেত থানাধীন ৩০০ ফিট সড়কে অটোরিকশা চলাচলকে ঘিরে কথিত একটি স্টিকার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য থামছেই না। চালক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্বাচল–কুড়িল বিশ্বরোড রুটে চলাচলকারী প্রায় ২৫০টি অটোরিকশা থেকে প্রতি মাসে প্রতিটির বিপরীতে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আদায় করা হয়। সেই হিসাবে প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা হাতবদল হচ্ছে। অভিযোগ, নির্ধারিত অর্থ পরিশোধের পর একটি বিশেষ স্টিকার দেওয়া হয়, আর সেই স্টিকারই যেন সড়কে চলাচলের অলিখিত ছাড়পত্র।
স্থানীয় বাসিন্দা ও একাধিক অটোরিকশাচালকের অভিযোগ, পূর্বাচলের ভোলানের শরীফ, অটোচালক মনির, ইছাপুরা ছনি এলাকার মনির (২), পূর্বাচল বাসাবাসি এলাকার মোক্তার, পাতিরা এলাকার শামিম ওরফে ‘গ্যারেজ শামিম’ এবং কুড়িলের নাজমুলকে ঘিরেই পরিচালিত হচ্ছে কথিত এই স্টিকার সিন্ডিকেট। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশা থেকে মাসিক চাঁদা আদায়, স্টিকার বিতরণ এবং সংগৃহীত অর্থের ভাগ-বাঁটোয়ারার পুরো প্রক্রিয়ায় তাঁদের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, দিনের পর দিন প্রকাশ্যে এমন অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন?
চালকদের দাবি, প্রতি মাসের ২৫ তারিখ থেকে শুরু হয় নতুন মাসের হিসাব। এর কয়েক দিন আগেই পূর্বাচল–কুড়িল বিশ্বরোড রুটে চলাচলকারী অনেক অটোরিকশাকে ডাম্পিং করা হয়, রেকার বিল আদায় করা হয়, যাতে চালকদের পরবর্তী মাসের স্টিকার নিতে বাধ্য করা যায়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, স্টিকার না থাকলে হয়রানি, আর স্টিকার থাকলে নির্বিঘ্নে চলাচল-এই অভিযোগ বহুদিনের। প্রশ্ন উঠছে, দিনের পর দিন এমন অভিযোগ চললেও কার্যকর ব্যবস্থা কোথায়?
স্থানীয়দের দাবি, ৩০০ ফিট সড়কের এই কথিত চাঁদাবাজির ঘটনা এর আগেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, পরিস্থিতির কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘটেনি। বরং একই পদ্ধতিতে আদায় চলছে মাসিক চাঁদা। ফলে জনমনে প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে-কেন বারবার অভিযোগ প্রকাশের পরও এই চক্র অটুট? কার প্রভাব বা আশ্রয়ে তারা এতটা নির্ভয়ে সক্রিয়? নাকি শস্যের ভেতরেই ভূত ?
