বৃহস্পতিবার | সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ চট্টগ্রামে শিশু মাহফুজ হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, বর্ষা হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

চট্টগ্রামে শিশু মাহফুজ হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, বর্ষা হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

রকসী সিকদার, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরে সাত বছরের শিশু মাহফুজকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় মো. আল আমিন (৪৪) নামে এক জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মরদেহ গোপনের অপরাধে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।অন্যদিকে শিশু মারজান হক বর্ষা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) চট্টগ্রামের দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক নিশাদুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. শহীদুল ইসলাম জানান, ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আসামি আল আমিনকে মৃত্যুদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। এছাড়া দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় অপরাধের আলামত গোপন ও মরদেহ সরিয়ে ফেলার দায়ে তাকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত আল আমিন কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলার কারপাশা পুতিহারা এলাকার প্রয়াত জিন্নাত আলীর ছেলে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সকালে নগরীর হালিশহরের গলিঢিপাপাড়া টোল রোড এলাকায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে শিশু মাহফুজকে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে হত্যাকাণ্ড গোপন করতে তার মরদেহ পাশের বেড়িবাঁধসংলগ্ন একটি খালে ফেলে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় নিহত শিশুর পিতা মো. মাহাবুব হালিশহর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করলে ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচারকাজ শুরু হয়। প্রায় ১০ বছর পর আদালত এ মামলার রায় ঘোষণা করলেন।

এদিকে, চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে শিশু মারজান হক বর্ষা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার মামলার বাদী ও নিহতের মা ঝর্ণা বেগমের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা।এর আগে ২১ জুলাই চট্টগ্রামের প্রথম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোস্তাক আহমদ আসামি লক্ষণ দাশের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে মামলাটি শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের আদেশ দেন।

শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ জানান, অভিযোগ গঠনের পর মামলাটি স্থানান্তরিত হয় এবং বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রমের সাক্ষ্যপর্ব শুরু হয়েছে। আগামী রোববার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় নিহত বর্ষার মা ঝর্ণা বেগম মেয়ের নিখোঁজ হওয়া থেকে লাশ উদ্ধারের বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি আদালতের কাছে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে বলেন, “আর যেন কোনো শিশুর এভাবে মৃত্যু না হয়।

মামলায় আসামি লক্ষণ দাশের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে ২০ জন সাক্ষীর নাম রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর নগরের কোতোয়ালী থানার জামালখান এলাকায় বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় শিশু মারজান হক বর্ষা। পরিবার সাধারণ ডায়েরি করার তিন দিন পর শিকদার হোটেলসংলগ্ন বড় নালা থেকে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা