শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
প্রচ্ছদ জাতীয় যত্রতত্র বালি উত্তোলন ও স্তুপে নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধ হুমকিতে, আতঙ্কে যমুনা পাড়ের মানুষ

যত্রতত্র বালি উত্তোলন ও স্তুপে নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধ হুমকিতে, আতঙ্কে যমুনা পাড়ের মানুষ

মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ থেকে : সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে যমুনা নদীর ইজারাকৃত মহালের বাহিরে থেকে যত্রতত্র বালি উত্তোলন এবং নদীর পাড় দিয়ে অবৈধভাবে বালির স্তুপ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে মহালের সাব ইজারাদার হিল্লোল তালুকদারের বিরুদ্ধে। এতে নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধ হুমকি, নতুন চর সৃষ্টিতে বাধা, আবাদি জমি নষ্ট এবং ধুলোবালির কারণে নদীপাড়ে মানুষের বসবাসের অনুপযোগী হয়ে ওঠেছে।

কাজিপুর উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, বাংলা ১৪৩৩ সনের বালুমহাল ইজারার আওতায় কাজিপুর মৌজার আরএস খতিয়ান নং-১, আরএস দাগ নং-৭০০১-এর ১৯৪.১৭ একর জমির বালুমহাল মেসার্স মিম কনস্ট্রাকশন প্রতিষ্ঠান প্রায় ১ কোটি ৭৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ইজারা গ্রহণ করে।

সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধ থেকে কমপক্ষে ৫০০ মিটার দূরে বালু সংরক্ষণ এবং ১,০০০ মিটার দূর থেকে বালু উত্তোলনের নিয়ম থাকলেও তা উপেক্ষা করে নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধ ঘেঁষে, আবাসিক এলাকায় ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘিরে প্রায় ৪০টি স্থানে বালু মজুদ ও বেচাকেনা করা হচ্ছে। এছাড়াও মহালের বাহিরে থেকে যত্রতত্র ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালি উত্তোলনের কারণে নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধ হুমকির মুখে পড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মহালের বাহিরে থেকে অপরিকল্পিত বালি উত্তোলনের কারণে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা ভাঙ্গায় হাজার হাজার মানুষ নিঃস্ব হচ্ছে। নদীতে স্বাভাবিকভাবে নতুন চর সৃষ্টি ব্যাহত হচ্ছে। নদীর পাড় দিয়ে অবৈধভাবে বালির স্তুপ করে রাখার কারণে বসবাসের অনুপযোগীসহ আবাদি জমি নষ্ট হচ্ছে।

অপরদিকে, উত্তোলিত বালি পরিবহনের সময় সড়কে অতিরিক্ত ধুলোবালির সৃষ্টি হওয়ায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে। পথচারী ও যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে এবং শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন ধূলো বাহিত রোগের প্রকোপও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

বালু মহালের সাব ইজারাদার হিল্লোল তালুকদার বলেন, মহালের বাহিরে থেকে কোনো প্রকার বালি উত্তোলন করা হচ্ছে না। নদীর পাড়ে ও আবাসিক এলাকায় বালির স্তুপের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা শুধু মহাল থেকে বালি বিক্রি করি। বালির স্তুপগুলো আমাদের না। সুতরাং এবিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারবো না।

কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মহালের বাহিরে থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালি উত্তোলন ও বালু সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নিয়ম না মানার বিষয়টি নজরে এসেছে। বালি কারবারিদের সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও যদি তারা নিয়ম না মানে, তাহলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, মহালের বাহিরে বাঁধের নিকট থেকে বালি উত্তোলনের অভিযোগে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু তারা প্রশাসনের দৃষ্টি আড়াল করে গোপনে মহালের বাহিরে বাঁধের নিকট থেকে যত্রতত্র বালি উত্তোলন করে। সারাক্ষণ তাদের পাহারা দেওয়া সম্ভব না। নদীতীর ও বাঁধ ঘেঁষে বালির স্তুপের বিষয়ে তিনি বলেন, স্থানীয়দের কিছু জমি ভাড়া নিয়ে বাঁধ দখল করে বালির স্তুপ করে রাখায় বাঁধ সংরক্ষণ কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। এ জন্য তাদের বারংবার নিষেধ করা হয়েছে।

 

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা