মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জুয়েল, কুলাউড়া মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের সীমান্তঘেঁষা গুরুত্বপূর্ণ কুলাউড়া-জুড়ী-বড়লেখা পুলিশ সার্কেলে প্রায় দুই মাস ধরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নেই। গত ৬ জুন এ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমল হোসেনকে অন্যত্র বদলি করা হলেও ২৩ আগস্ট পর্যন্ত তাঁর স্থলে নতুন কোনো কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হয়নি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ সার্কেলের তিন থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারকিতে মৌলভীবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
পুলিশ সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুলাউড়া-জুড়ী-বড়লেখা সার্কেলের আওতায় রয়েছে কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা থানা। তিনটি উপজেলাই ভারতের সীমান্তসংলগ্ন হওয়ায় এ অঞ্চলে রয়েছে একাধিক সীমান্ত ফাঁড়ি। পাশাপাশি দুটি শুল্ক স্টেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নিয়মিত পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে। ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা, চোরাচালান প্রতিরোধ, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এ সার্কেলের গুরুত্ব রয়েছে।
শুধু আইনশৃঙ্খলার দিক থেকেই নয়, পর্যটন ও অর্থনৈতিকভাবেও কুলাউড়া-জুড়ী-বড়লেখা গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এ তিন উপজেলার মধ্যে রয়েছে এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ হাকালুকি হাওর, মাধবকুণ্ড ও পরিকুণ্ড জলপ্রপাত, লাতু রেলওয়ে স্টেশন, পৃথিমপাশা নবাববাড়ি এবং দেশের অন্যতম উঁচু পাহাড় কালা পাহাড়। পাশাপাশি তিন থানার এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৬৪টি চা-বাগান রয়েছে। এসব পর্যটনকেন্দ্র ও চা-বাগানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সারা বছরই পর্যটকদের যাতায়াত রয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা—এই তিন উপজেলায় মোট জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে ৮ লাখ। রয়েছে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১২০টি হাট-বাজার। এ ছাড়া বড়লেখার আজিমগঞ্জ এলাকায় আতর উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত প্রায় ৪০০টি ছোট-বড় কারখানা রয়েছে। স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও এসব প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এত বড় ও গুরুত্বপূর্ণ একটি পুলিশ সার্কেলে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ শূন্য থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সীমান্তবর্তী তিন উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারকি, সীমান্ত নিরাপত্তা, পর্যটনকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সমন্বয়ের জন্য সার্কেলে একজন পূর্ণাঙ্গ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থাকা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত এ পদে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদায়ন করা হলে তিন থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে তদারকির পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে পুলিশের সমন্বয় জোরদার হবে।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
