শনিবার | সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ দিলদারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাকে শোকজের নির্দেশ, শিক্ষকদের বোনাস বন্ধ

দিলদারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাকে শোকজের নির্দেশ, শিক্ষকদের বোনাস বন্ধ

মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জুয়েল, কুলাউড়া মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার দিলদারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া এবং টেস্ট পরীক্ষায় ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থীকে পাস দেখানোর অভিযোগের ঘটনায় প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রুপিয়া বেগমকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের সব শিক্ষক-শিক্ষিকাকে দেওয়া অতিরিক্ত বোনাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি।

গত ১০ ও ১২ আগস্ট বিভিন্ন মাধ্যমে দিলদারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ও টেস্ট পরীক্ষা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিদ্যালয়টি থেকে এবার ১১৮ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে ৫৬ জন উত্তীর্ণ এবং ৬২ জন অকৃতকার্য হন। পাসের হার ৪৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ। একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

সংবাদ প্রকাশের পর টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া এবং টেস্ট পরীক্ষায় ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থীকে পাস দেখানোর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবুল হুসেন জানান, বোর্ডের কাছে টেস্ট পরীক্ষায় ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস দেখানোর বিষয় ছিল। ওই লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদেরও পাস দেখিয়ে বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। এ সিদ্ধান্ত প্রধান শিক্ষিকা রুপিয়া বেগম নিয়েছিলেন বলেও তিনি জানান।

তবে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও কুলাউড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু মাসুদ আগে জানিয়েছিলেন, টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে বোর্ড পরীক্ষায় পাঠানোর বিষয়টি তিনি জানতেন না।

৩০ আগস্ট রোববার কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দিলদারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রুপিয়া বেগমকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়ার জন্য জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে। তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারলে শোকজ করা হবে।

মৌলভীবাজার জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফজলুর রহমান জানান, বিষয়টি কুলাউড়া উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজারের কাছে দেওয়া হয়েছে।

কুলাউড়া উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কুলাউড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও দিলদারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আবু মাসুদকে জানানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষিকা কারণ দর্শাতে ব্যর্থ হলে তাকে শোকজ করার প্রক্রিয়া নেওয়া হবে।

তবে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আবু মাসুদ বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে প্রধান শিক্ষিকাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এমন কোনো চিঠি বা নির্দেশনা তিনি এখনো পাননি। তবে ঘটনাটি জানার পর বিদ্যালয়ের সব শিক্ষক-শিক্ষিকাকে দেওয়া অতিরিক্ত বোনাস বন্ধ করে দিয়েছেন।

এ ঘটনায় টেস্ট পরীক্ষার ফলাফল, ফরম পূরণ এবং বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা