শনিবার | সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ শেরপুরে পলিথিন এবং প্লাস্টিকে মিলছে জ্বালানি তেল

সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দাবি উদ্যোক্তার

শেরপুরে পলিথিন এবং প্লাস্টিকে মিলছে জ্বালানি তেল

তারেক মুহম্মদ আব্দুল্লাহ রানা, শ্রীবরদী ( শেরপুর) : অব্যাহত জ্বালানি সংকটে শেরপুরে আশার বাণী শুনাচ্ছেন এক তরুণ উদ্যোক্তা। নিষিদ্ধ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বর্জ্য পলিথিন এবং প্লাস্টিক পুড়িয়ে তৈরি করছেন জ্বালানি তেল ডিজেল, পেট্টোল ও অকটেন। সরকারি সহায়তা পেলে তার এই উদ্ভাবন মিটাতে পারে জ্বালানি সংকট। সেই সাথে মুক্তি মিলবে পরিবেশ বিপর্যয়ের।

শেরপুর পৌরসভার ডাম্পিং স্টেশন। প্রতিদিনই শহরের ময়লায় স্তূপ বড় হয়। যার ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই পলিথিন ও প্লাস্টিক। ফলে অপচনশীল এই বর্জ্য রাখায় যায়গা নিয়ে দুশ্চিন্তায় প্রশাসন। আর্বজনা ফেলার জায়গা না থাকায় লোকালয় ও নদীর তীরেও ফেলতে হচ্ছে ময়লা। এই সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসেন তরুণ উদ্যোক্তা তৌহিদুল ইসলাম। পৌর প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে তৌহিদুল তৈরি করেন বিশেষ মেশিন। সেই মেশিনে পলিথিন ও প্লাস্টিক পুড়িয়ে তৈরি করেন ফার্নেস অয়েল। যা পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে রুপ নেয় ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনে। দৈনিক তিনশ কেজি পলিথিনেই তৈরি হয় ১৭০ থেকে ২০০ লিটার জ্বালানি। যা বাজারের তেলের সমগুণসম্পন্ন। তার দাবি, রিফাইনারি মেশিন সহ প্রয়োজনীয় কিছু যত্নপাতি পেলে প্রকল্পকে দিতে পারবেন বাণিজ্যিক রুপ।

দীর্ঘদিন মাটিতে পড়ে থেকে এসব বর্জ্যে হয় পরিবেশ দূষণ, বন্ধ করে দেয় নালা-নর্দমা, নষ্ট করে মাটির উর্বরতা। এই প্রযুক্তি তৈরি হচ্ছে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। দাবি স্থানীয়দের।
এই প্রযুক্তির মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্য কমিয়ে দেশীয়ভাবে জ্বালানি উৎপাদন সম্ভব। সাথে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও গবেষণার দরকার রয়েছে।

শেরপুর পৌরসভার প্রশাসক আরিফা সিদ্দিকা বলেন, সঠিক প্রযুক্তি ও মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা গেলে এই উদ্যোগ পরিবেশ দূষণ কমাতে ভূমিকা রাখবে। পৌরসভা প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

পলিথিন ও প্লাস্টিক, যা একসময় ছিল পরিবেশের জন্য অভিশাপ, সঠিক ব্যবস্থাপনায় তা-ই এখন হয়ে উঠছে সম্পদে। পরিবেশ রক্ষা আর অর্থনৈতিক সাশ্রয়ে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের পাশে থাকবে সরকার এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা