শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ আশুলিয়ায় দরজায় তালা, ভেতরে তিন লাশ : দম্পতির সঙ্গে নবজাতকেরও নিথরদেহ

আশুলিয়ায় দরজায় তালা, ভেতরে তিন লাশ : দম্পতির সঙ্গে নবজাতকেরও নিথরদেহ

ফাহাদ-ই-আজম, সাভার : সাভারের আশুলিয়ায় একটি ভাড়া বাসার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের সদ্য ভূমিষ্ঠ নবজাতকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘরের ভেতরের পরিস্থিতি, নিহত পুরুষের গলায় গামছা প্যাঁচানো থাকা এবং মরদেহ উদ্ধারের ধরন দেখে ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ড হিসেবে সন্দেহ করছে পুলিশ। তবে কীভাবে, কেন এবং কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে—তা এখনো নিশ্চিত নয়।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে আশুলিয়ার মধ্য জামগড়া এলাকার হাজী হযরত আলীর চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

স্থানীয়দের ভাষ্য, চলতি মাসের শুরুতে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওই দম্পতি বাসাটি ভাড়া নেন। এরপর থেকেই কক্ষটির দরজা-জানালা প্রায় সবসময় বন্ধ থাকত। শুক্রবার রাতে ঘরটি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হলে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় পায়। পরে তালা ভেঙে ভেতর থেকে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, নিহত পুরুষের গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। মরদেহগুলো অর্ধগলিত হয়ে যাওয়ায় মৃত্যুর সময় ও ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। হত্যাকাণ্ডের আগে বা পরে কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

ঘটনাস্থলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক টিম গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি নিহতদের পরিচয় শনাক্ত, সম্ভাব্য হত্যার কারণ অনুসন্ধান এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে ঢাকা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও আশুলিয়া থানা পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, গত ৯ আগস্ট স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওই কক্ষটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। পুলিশ গিয়ে বাইরে থেকে কক্ষটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পায়। পরে তালা ভেঙে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ওসি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যার কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

দুই মাসে দ্বিতীয় ঘরবন্দী লাশের ঘটনা :
আশুলিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর আগে গত ১৯ আগস্ট ভাদাইল পশ্চিমপাড়া এলাকায় নিখোঁজের মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে আব্দুর রহমান (৫) নামে এক শিশুর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মুখ ও গলায় লাল স্কচটেপ প্যাঁচানো ছিল। একটি চারতলা ভবনের ছাদ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে এবার একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—আশুলিয়ায় আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর? ভাড়াটিয়াদের পরিচয় যাচাই, বাড়িওয়ালাদের তথ্য সংরক্ষণ এবং সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর ব্যবস্থা কতটা কার্যকর—তদন্তের পাশাপাশি এসব বিষয়ও সামনে এসেছে।

তবে দুই ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা