শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ টাঙ্গাইলে কোম্পানির মুরগির বিষ্ঠা সড়কে : দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হাজারো মানুষ

টাঙ্গাইলে কোম্পানির মুরগির বিষ্ঠা সড়কে : দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হাজারো মানুষ

মনোয়ার হোসেন সোহেল, ঘাটাইল টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ তরল বিষ্ঠা সড়কে পড়ে সড়ক হয় স্যাতস্যাতে এবং পিচ্ছিল। দুর্ভোগে পথচারীসহ সাগরদীঘি ও লক্ষিন্দর ইউনিয়নের হাজারো মানুষ। মুরগির বিষ্ঠায় ছয়লাব ১০ কি.মি সড়ক।

ঘাটাইলের গারোবাজার থেকে সাগরদীঘির দূরত্ব প্রায় ১০ কি.মি.। এই সড়ক দিয়ে রাতে পরিবহন করা হয় তরল এবং বস্তায় ভরা মুরগির বিষ্ঠা। প্লাস্টিক বস্তায় ভরা বিষ্ঠা স্কুল—কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ সড়কের বিভিন্নস্থানে পড়ে দিনেরবেলায় সৃষ্টি হয় তীব্র দুর্গন্ধের। তরল বিষ্ঠা সড়কে পড়ে সড়ক হয় স্যাতস্যাতে এবং পিচ্ছিল। দুর্ভোগে পথচারীসহ হাজারো মানুষ ।
সাগরদিঘী বালক উচ্চ বিদ্যালয় এবং সাগরদীঘি কলেজ একই ফটক ব্যবহার করে। প্রায় প্রতিনিয়ত দুই প্রতিষ্ঠানের ফটকের সামনে মুরগির বিষ্ঠার বস্তা পড়ে থাকে। পাশেই মসজিদ। তীব্র দুর্গন্ধের মধ্যে শিক্ষক—শিক্ষার্থী গ্রহণ ও পাঠদান এবং মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন। স্কুল শিক্ষার্থী নাঈম ইসলাম বলে গন্ধে আমাদের পেট ফুলে যায়। আমাদের বাঁচান। কলেজ শিক্ষার্থী উর্মির প্রশ্ন— আমরা কি সভ্য সমাজে বাস করি না অসভ্য সমাজে? এগুলো দেখার কি কেউ নেই?

সাগরদীঘি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, দুর্গন্ধে স্কুলের অফিসকক্ষসহ শ্রেণিকক্ষে থাকা যায় না। ব্যহত হচ্ছে পাঠদান। সাগরদীঘি কলেজের অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন বলেন, প্রায়দিন সকালে ওঠেই দেখা যায় সড়কে পড়ে আছে মুরগির বিষ্ঠা। এই সড়ক ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা কলেজে আসতে চায়না। দুর্গন্ধে পেট ফুলে যায়। এর একটা বিহিত করা দরকার।

স্থানীয়রা জানায় লক্ষিন্দর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জসিম চৌধুরীসহ সাগরদীঘি ইউনিয়নের কয়েকজন বিএনপির নেতাকর্মী এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। মুঠোফোনে জসিমের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমি ছয়মাস আগে এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলাম, এখন আর নাই। বিষ্ঠা রাস্তায় পড়ে মানুষের চলাচলের অসুবিধা এবং তীব্র দুর্গন্ধ হয় তা স্বীকার করেন তিনি। আমার নাম কেউ বলে থাকলে তা ঠিক না।

লক্ষিন্দর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম জামাল বলেন, মুরগির বিষ্ঠা তরল জাতীয় হওয়ায় রাস্তা দিয়ে পরিবহন করার সময় কিছু পড়ে যায়। অপরদিকে এখানে একটা সিন্ডিকেট আছে। তাদের টাকা পয়সা না দিতে পারলে ট্রাক সড়কে আটকিয়ে দেয় এবং বিষ্ঠাগুলো সড়কে ফেলে দেয়। ঘাটাইলের মধ্যে সবচেয়ে বড় সিপি কোম্পানি প্যারাগন।

প্যারাগনের ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম বলেন, আমাদের থেকে বিষ্ঠা ক্রয় করেন জসিম চৌধুরীসহ অনেকে। পরিবহনের সময় রাস্তায় বিষ্ঠা পড়ে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি আরও বলেন বিষ্ঠা ব্যবসায়ীরা ঠিকমত পরিবহন না করতে পারলে বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হবে।

সাগরদীঘি বাজার সমিতির সভাপতি আব্দুল হামিদ বলেন, দুর্গন্ধে অতিষ্ট মানুষ। সড়কের পাশের দোকানগুলোতে মানুষ আসতে চায় না। মুরগির বিষ্ঠা সড়কে পড়ে থাকার কারণে চলাচলের কোনো পরিবেশ থাকেনা।

লক্ষিন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, বিষ্ঠা পরিবহনের সময় লক্ষিন্দর থেকে শুরু করে সাগরদীঘি পর্যন্ত পুরো সড়ক ছয়লাব হয়ে যায়। সকালবেলা শিক্ষার্থীরা ঠিকমত স্কুল—কলেজে যেতে পারে না। মসজিদ মাদ্রাসার সামনেও বিষ্ঠার বস্তা এবং তরল পড়ে থাকে। চরম ভোগান্তিতে আছে মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসি আমার কাছে বারবার এ বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ করে আসছে। আজ বুধবার বিষয়টি ইউএনওকে জানানো হয়েছে।

ঘাটাইল থানা সাগরদীঘি তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন খান বলেন, জনদুর্ভোগ যেন না হয় সে বিষয়ে যারা বিষ্ঠা ব্যবসার সাথে জড়িত তাদের ডেকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো.জহিরুল ইসলাম তালুকদারের মোবাইল ফোনে কল করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.মাহমাদুল হাসান বলেন, এলাকাবাসিসহ লক্ষিন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিষয়টি আমাকে আবগত করেছেন। প্যারাগনসহ অন্যান্য সিপি কোম্পানিগুলোকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। কোম্পানিগুলো বাহিরে বিষ্ঠা বিক্রি বন্ধ করে দিবে বলে তাকে বলেছেন। এরপরও যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে তবে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা