গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) থেকে শেখ বিপ্লব: ময়মনসিংহের গৌরীপুরের সাব-রেজিস্ট্রারের মোঃ রফিকুল ইসলামের ঘুষ ও দুর্নীতির প্রতিকার চেয়ে প্রতিমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সনদপ্রাপ্ত দলিল লেখকরা।
সাব-রেজিস্টার মোঃ রফিকুল ইসলাম যোগদানের পর থেকেই তার স্বেচ্ছাচারিতা ও অফিস মোহরা আমিনুল ইসলামের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা উৎকোচ আদায় করে আসছে বলে জানান, স্থানীয় সনদপ্রাপ্ত দলিল লেখকরা। দতন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহরের দাবি জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন কর্মরত ৬১ জন দলিল লেখক।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রয়োজনীয় দলিল-পত্রাদির সব ঠিক থাকা সত্ত্বেও মনগড়া ও অহেতুক অজুহাতে রেজিস্ট্রি আটকে রেখে সেবা গ্রহীতাদের চরম হয়রানি করায়। নামজারি, পর্চা, ওয়ারিশান সনদপত্র, নামের করণিক ভুল, নামের বানান সংশোধনের এফিডেভিট সঠিক থাকার পরও নানান অযুহাতে দলিল করেননি তিনি। এসব এর প্রতিবাদ করায় দলিল লেখকদের লিখিত ও অলিখিতভাবে বহিস্কার করা হয় এবং সেবা গ্রহীতাদের সামনে তাদের লাঞ্ছিত করা হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ জমি কেনাবেচায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এতে করে ভেস্তে যাচ্ছে সরকারের রাজস্ব আদায়।
অভিযোগে উল্লেখ , সরকারি আনুষাঙ্গিক ফি ছাড়াও সর্বনিম্ন ৩ লক্ষ টাকা মূল্যের দলিলে ৩ হাজার ৪শ টাকা এবং ৩ লক্ষ টাকার ওপরে প্রতি লাখে ৪শ টাকা হারে অতিরিক্ত ঘুষ নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়াও পিতা-মাতা ও দাদা-দাদীর নামে থাকা বিআরএস খতিয়ানভিত্তিক দলিলের জন্য প্রতি দলিলে ৩ হাজার টাকা এবং দাতার একাধিক নাম বা ‘ওরফে’ নাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতি দলিলে আলাদাভাবে ৩ হাজার টাকা করে আদায় করা হচ্ছে।
গৌরীপুর দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ গোলাম হাচিবেশ শাহীদ মুন্সী জানান, মোঃ রফিকুল ইসলাম সাব রেজিষ্ট্রার হিসেবে যোগদানের পর থেকেই দলিল করতে গিয়ে ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন দলিল লেখক ও সেবাগ্রহীতারা। নির্দিষ্ট পরিমান অনৈতিক সুবিধা না দিলে বিভিন্ন অযুহাতে জমি রেজিস্ট্রি অনাবশ্যক বিলম্ব করেন এবং দলিল লেখকদের অযথাই বহিস্কার করেন। এই দুর্নীতিবাজ সাব-রেজিস্ট্রারের বিচার দাবী করেন তিনি।
অফিস মোহরা আমিনুল ইসলাম অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন, দলিলের ক্ষেত্রে রাজস্ব খাতের বাহিরে কোন টাকা নেওয়া হয়না। অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে কেউ প্রোপাগন্ডা ছড়ালে কিছুই করার নেই।
সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ রফিকুল ইসলামের বক্তব্যের জন্য তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও বন্ধ পাওয়া যায়।
