রংপুর থেকে গোলজার হোসেন : শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তাঁর পরিবারের সকলকে নৃশংস কায়দায় খুনের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে হত্যার সাথে যুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গতকাল সকাল ১০’৩০টা থেকে দুপুর ১২’৩০টা পর্যন্ত রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট রংপুর জেলার উদ্যোগে অবস্থান কর্মসূচী পালন করে।
অবস্থান কর্মসূচীতে নেতৃবৃন্দ বলেন, রংপুর ছিল শান্তি প্রিয় নিরাপদ শহর। অথচ অল্পদিনেই এই নগর আতঙ্কের নগরে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যার পর গলির রাস্তায় হাটতেও গা ছমছম করে।ছিনতাই-মাদকে নগরবাসী অতিষ্ঠ। অল্প কয়েকদিনেই রংপুর নগরীতে একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটেছে। সন্ত্রাসীরা দিনের বেলায় দাসপাড়ায় ১ জনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে, একটি অটো রিকশা গ্যারেজে ১ জনকে হত্যা করেছে । ১৫ দিনে এরকম অন্তত ৮/৯ জন খুন হয়েছে।
সম্প্রতি মাছুয়াপাড়ায় নিজবাড়িতে রংপুর জেলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী সপরিবারে খুনের শিকার হয়। জলজ্যান্ত একটি পরিবার নি:শ্বেস হয়ে গেল।এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দু’ জনকে গ্রেফতার করে সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ কমিশনার আব্দুল মাবুদ একরকম ঘোষণা করে বললেন অল্প সময়েই খুনিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, পুলিশ সফল হয়েছে। পুলিশের এ বক্তব্য ও পরে পুলিশের উপস্থিতিতে আলামত ধুয়ে নষ্ট করায় জনমনে প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। পুলিশের তরফ থেকে বলা হয়েছে ইয়াবা সেবনে বাধা দেয়ায় গ্রেফতারকৃত আসামিদ্বয় তাদের একে একে গলায় পেচিয়ে হত্যা করেছে,অথচ ডোপটেস্টে আসামিদের মাদক গ্রহণের প্রমাণ মেলেনি।এরকম নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রকৃত হত্যাকারীদের সনাক্তকরণে যত ধরনের মোটিভ থাকতে পারে তা আমলে নেয়া হয়নি।
তাই পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়া জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। এখন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির তত্ত্বাবধানে তদন্ত করে প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তার করে এই ঘটনার বিচার করতে হবে।অবস্থান কর্মসূচি থেকে কমরেড আব্দুল কুদ্দুস বলেন,গোটা শহরের অলি-গলি মাদকে সয়লাব। মাদকের হটস্পটগুলো পুলিশের অজানা থাকার কথা না। মাদক সরবরাহে কারা জড়িত, এদের প্রশ্রয়দাতা কে? এদের চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নিলে হয়তো এ ধরণের খুনের পুনরাবৃত্তি ঘটতো না। রংপুরসহ সারাদেশেই প্রতিদিনই খুন-ধর্ষণ, চাঁদাবাজি-ছিনতাই-মাদকে মানুষের নিরাপদ জীবনযাপন অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
এ পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি করে সকল অপরাধী কর্মকান্ড বন্ধ করতে হবে।বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির তত্ত্বাবধানে গণপতি চক্রবর্তী পরিবারের প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তার করে রংপুরের জনগণের জিজ্ঞাসার সঠিক উত্তর দিতে হবে। তিনি আরও বলেন,এর ব্যত্যয় হলে নেতৃবৃন্দ রংপুরবাসীকে নিয়ে আগামী ২৯সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি পেশ করবে। এই কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন সিপিবি জেলা সভাপতি ভাষা সৈনিক বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড শাহাদত হোসেন, সংহতি জ্ঞাপন করে বক্তব্য দেন এড. রোকুনুজ্জামান রোকন, মহানগর সভাপতি রাতুল এড. রাতুজ্জামান রাতুল,বাসদ (মাক্সবাদী) জেলা আহবায়ক কমরেড আনোয়ার হোসেন, সদস্যসচিব আহসানুল আরেফিন তিতু, বাংলাদেশ জাসদ জেলা সভাপতি শাহীনুর রহমান, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক অমল সরকার প্রমূখ। জেলা বাসদ সদস্যসচিব মমিনুল ইসলামের পরিচালনায় কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন যুক্ত ফ্রন্টের সমন্বয়ক ও বাসদ আহবায়ক কমরেড আব্দুল কুদ্দুস।
