শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ ৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের প্রাক্কলন ফাঁসের অভিযোগ

৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের প্রাক্কলন ফাঁসের অভিযোগ

মনোয়ার হোসেন সোহেল, টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইল পৌরসভায় গত ৩ সেপ্টেম্বর ই-জিপিতে দরপত্র উন্মুক্ত হওয়ার আগেই প্রাক্কলন ফাঁস হওয়ায় বিভিন্ন ঠিকাদার ও পৌরবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ৫ কোটি ৩৭ লাখ ৩৭ হাজার ১৩৭ টাকা ৯৯ পয়সার কাজের প্রাক্কলন ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ কারণে, পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই প্রাক্কলন ফাঁস করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান আলী, সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম ‘সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের জড়িত থাকার তথ্য উঠে এসেছে।

এর আগেও প্রথম দরপত্র আহ্বানের সময় ৫ কোটি ২৩ লাখ ৯ হাজার ১৫ টাকা ২৭৪ পয়সার প্রাক্কলন ফাঁস হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে সেই দরপত্রটি বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হলেও এবারও একই কায়দায় প্রাক্কলন ফাঁস হয়। জানা যায়, টাঙ্গাইল পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (১ম সংশোধিত) আওতায় একটি প্যাকেজে ৫ কোটি ৩৭ লাখ ৩৭ হাজার ১৩৭ টাকা ৯৯ পয়সা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়।

সম্প্রতি টাঙ্গাইল পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়নের আওতায় ৭ লাখ ৪৩ হাজার ১০০ টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্পে সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম ঠিকাদারকে প্রাক্কলিত টাকার তথ্য জানিয়ে দেন, এমন অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে মাত্র শূন্য দশমিক ৪১ শতাংশ কম দর দেখিয়ে কাজটি লুফে নেয় মেসার্স কাওছার আকবার। অভিযোগ রয়েছে, এই কাজের মেয়াদ শেষ না হতেই অধিকাংশ সড়কবাতি নষ্ট হয়ে গেলেও কোনো ধরনের পরিদর্শন ছাড়াই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে ঠিকাদারকে পুরো বিল পরিশোধ করেন সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পৌর কর্মকর্তা দাবি করেন, ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে সদ্য বিদায়ী পৌরসভার প্রশাসক সঞ্জয় কুমার মহন্ত, নির্বাহী কর্মকর্তা আনিসুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান আলী এবং সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম তাদের পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতেই দরপত্র আহ্বানের পরপরই প্রাক্কলন ফাঁস করেন। গত বছরও একই কারণে দরপত্র বাতিল করতে হয়েছিল।

তারা আরও বলেন , গত বছরের ২৫ মে প্রথম দরপত্র আহ্বান করা হলে সে সময় ৫ কোটি ২৩ লাখ ৯ হাজার ১৫ টাকা ২৭৪ পয়সার প্রাক্কলন ফাঁস হয়। পরবর্তীতে জানাজানি হলে তা বাতিল করে চলতি বছর পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। কিন্তু এবারও প্রাক্কলনটি ফাঁস হয়ে যায়। প্রথমবার দরপত্র বাতিলের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ না দেখিয়েই দ্বিতীয়বার তা আহ্বান করা হয়। বর্তমান অনলাইন ই-জিপিতে লাইভে থাকা এই প্রকল্পের দাফতরিক প্রাক্কলন ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৩৮ লাখ ৩৮ হাজার ১৩৭ টাকা ৯৯ পয়সা। প্রাক্কলন ফাঁসের বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসায় গত ৩ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত দিনে দরপত্রটি উন্মুক্ত করা হয়নি।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের টাঙ্গাইল পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ডিসি লেকের সংস্কার, রাস্তার বাতি স্থাপন এবং হাঁটার পথ (অ্যাম্ফিথিয়েটার ও প্লাজা) নির্মাণে ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৮৬ হাজার ৬০১ টাকা ৬৮ পয়সা ব্যয় ধরা হয়েছে। এছাড়া ঢাল সুরক্ষা ও হাঁটার পথ নির্মাণে ১ কোটি ৩০ হাজার ৩৬৯ টাকা ৯৭ পয়সা এবং একই স্থানে সীমানা প্রাচীর, প্রধান প্রবেশদ্বার ও টিকিট কাউন্টার নির্মাণে ৪৮ লাখ ২১ হাজার ১৬৬ টাকা ৩৪ পয়সা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। প্রকল্পের শর্তানুযায়ী ই-জিপি (ওটিএম) পদ্ধতির মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পৌর কর্মকর্তা দাবি করেন, ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে সদ্য বিদায়ী পৌরসভার প্রশাসক, নির্বাহী প্রকৌশলী এবং সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম তাদের পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতেই দরপত্র আহ্বানের পরপরই প্রাক্কলন ফাঁস করেন। গত বছরও একই কারণে দরপত্র বাতিল করতে হয়েছিল। ভুক্তভোগী একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেন, সদ্য বিদায়ী প্রশাসক সঞ্জয় কুমার মহন্তসহ উল্লেখিত কর্মকর্তারা নিজেদের পছন্দমতো ঠিকাদারকে কাজ দিতেই পরিকল্পিতভাবে এই প্রাক্কলন ফাঁস করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে টাঙ্গাইল পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান আলী ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে ই-জিপির পাসওয়ার্ড কেবল তার কাছে নয়, সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলামের কাছেও রয়েছে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, এ ধরনের ঘটনা কারো কাম্য নয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

টাঙ্গাইল পৌরসভার নবনিযুক্ত প্রশাসক সুমাইয়া মোমিন বিষয়টি খতিয়ে দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা