কক্সবাজার থেকে রিয়াজ উদ্দিন : মানবতার কল্যাণ, আত্মশুদ্ধি ও মানুষের সেবায় গাউছে পাক হযরত শায়খ আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর আদর্শ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বায়তুশ শরফের রাহবার আল্লামা শায়খ আব্দুল হাই নদভী (মা.জি.আ.)।
তিনি বলেন, গাউছে পাক প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ পূর্ণরূপে অনুসরণ করতেন। তাঁর জীবন ও শিক্ষা মানবতার কল্যাণ, আত্মশুদ্ধি এবং মানুষের সেবার গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেয়।
ফাতেহা ইয়াজদাহুম উপলক্ষে কক্সবাজার বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের উদ্যোগে আয়োজিত ঈসালে সওয়াব মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আল্লামা শায়খ আব্দুল হাই নদভী বলেন, বায়তুশ শরফের দরবার কাদেরীয়া তরিকার ভিত্তিতে পরিচালিত। এর সঙ্গে নকশবন্দিয়া-মুজাদ্দিদিয়া ও মুহাম্মদিয়া তরিকার শিক্ষাও যুক্ত হয়েছে। প্রায় তিন বছর আগে আল্লামা সাইয়্যেদ সালমান হোসাইন নদভী (রহ.) তাঁকে বিভিন্ন তরিকার সবক, খেলাফত ও হাদিসের সনদ প্রদান করেন বলেও জানান তিনি।
গাউছে পাক হযরত শায়খ আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) ৫৬১ হিজরির ১১ রবিউস সানি ইন্তেকাল করেন। এ উপলক্ষে প্রতি বছর ১১ রবিউস সানি ফাতেহা ইয়াজদাহুম ও ঈসালে সওয়াব মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
বক্তব্যে গাউছে পাকের জীবন ও শৈশবের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, শৈশব থেকেই তাঁর জীবনে অসাধারণ আধ্যাত্মিক বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটে। পরবর্তীতে তিনি বাগদাদে গিয়ে দ্বীনি শিক্ষা, হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন।
তিনি বলেন, গাউছে পাকের শিক্ষা ছিল মানুষের কল্যাণ ও সেবার শিক্ষা। কাদেরীয়া তরিকার অন্যতম বৈশিষ্ট্য মানবসেবা ও মানবতার সার্বিক কল্যাণ সাধন। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে বর্তমান সময়েও বিভিন্ন পীর-মুর্শিদ হাসপাতাল, একাডেমি, এতিমখানা, মাদ্রাসা ও সেবাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন।
বায়তুশ শরফের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিচালনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সারা দেশে কেন্দ্রীয় বায়তুশ শরফসহ সাত শতাধিক প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে।
মাহফিলে পবিত্র দরুদ শরিফের তাৎপর্য নিয়েও আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল।
বায়তুশ শরফ আনজুমনে ইত্তেহাদ বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক বুলবুলে বায়তুশ শরফ কাজী মাওলানা শিহাব উদ্দীন এবং কক্সবাজার বায়তুশ শরফের মাওলানা ওমর ফারুকের যৌথ সঞ্চালনায় মাহফিলে বিভিন্ন আলেম-ওলামা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন।
মাহফিলে বক্তব্য রাখেন মাওলানা মামুনুর রশীদ নূরী, অধ্যক্ষ মাওলানা হাফিজুল হক নেজামী, অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুল হক আল-আজহারী, অধ্যক্ষ মাওলানা ফারুক হোসাইন, অধ্যক্ষ মাওলানা আবু সালেহ মুহাম্মদ ছশীমুল্লাহ, ড. মাওলানা ওমালি উল্লাহ মঈন, মাওলানা রিদওয়ানুল হক, মাওলানা মুহিব্বুর রহমান, হাকীম যাহেদী, মাওলানা শরিয়ত উল্লাহ হোসাইনী, মাওলানা জিয়াউল হক আনসারী, মাওলানা মুহাম্মদ আবু ওসমান, মাওলানা এস. এম. ফোরকান, অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল মান্নান শামসী, মাওলানা আবু আইয়ূব আনসারী, হাফেজ মাওলানা আবুল কালাম, মাওলানা লোকমান ও মাওলানা জিয়াউল করিমসহ অনেকে।
ঈসালে সওয়াব মাহফিলে খতমে কুরআন, খতমে খাজেগান, দরুদ শরিফ পাঠ ও খতমে বুখারি শরিফসহ বিভিন্ন আমল অনুষ্ঠিত হয়। বাদে মাগরিব জিকিরের মাহফিল এবং শেষ রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ ও জিকিরের মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
পরদিন তওবা-ইস্তিগফার, বাইআত ও বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়। মাহফিলের শেষ পর্যায়ে দেশ ও জাতির সুখ-সমৃদ্ধি এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মুনাজাত করা হয়।
মাহফিলে রাহবারে বায়তুশ শরফ আল্লামা শায়খ আব্দুল হাই নদভী (মা.জি.আ.) যুব সমাজের ইসলামী জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সমাজের অনেক যুবক ইসলামী জ্ঞান অর্জন থেকে পিছিয়ে রয়েছে। তাদের প্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সমাজ থেকে কুসংস্কার দূর করে উন্নত ও আদর্শ সমাজ গড়ে তুলতে যুব সমাজকে কোরআন-হাদিস ও ইসলামী জ্ঞানে সমৃদ্ধ করতে হবে। এজন্য যুবকদের কোরআন-হাদিস ও ইসলামী সাহিত্য পড়ার পাশাপাশি নিয়মিত অধ্যয়নের আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় সমাজের আলেম-ওলামা ও অভিভাবকদের যুব সমাজকে ইসলামী জ্ঞান অর্জনে সহযোগিতা ও উৎসাহ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
