শনিবার | সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ মাইজভান্ডারি গাউসিয়া হক কমিটির বর্ণাঢ্য আয়োজনে জশনে জুলুস, র‍্যালি ও সেমিনার অনুষ্ঠিত

মাইজভান্ডারি গাউসিয়া হক কমিটির বর্ণাঢ্য আয়োজনে জশনে জুলুস, র‍্যালি ও সেমিনার অনুষ্ঠিত

পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরী : পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ও চেরাগে গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী, বিশ্বঅলি শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর ৩৮তম পবিত্র বার্ষিক ওরশ শরীফ উপলক্ষে চট্টগ্রামের পটিয়ায় বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস ও র‍্যালি ও মাইজভাণ্ডারী সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

(২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার) মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ, পটিয়া উপজেলার সাংগঠনিক সমন্বয়কারী ও বিভিন্ন শাখা কমিটির সমন্বয়ে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মাইজভাণ্ডারী অনুসারী, নেতৃবৃন্দ
হাজার হাজার ভক্তরা অংশ নেন। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, জিকির ও দরুদ পাঠের মধ্য দিয়ে জশনে জুলুসটি উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জশনে জুলুসের র‍্যালি পটিয়া প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পটিয়া ইন্দ্রপোল একটি কমিউনিটি সেন্টারে বিশাল সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশের পটিয়া উপজেলা কমিটির সমন্বয়কারী জয়নাল আবেদীন আঙ্গুর।

এতে মেহমানে আলা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাইজভান্ডারি গাউসিয়া হক কমিটি কেন্দ্রীয় পর্ষদের সভাপতি আলহাজ্ব রেজাউল আলী জসিম চৌধুরী। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন পটিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম সওদাগর। প্রধান বক্তা ছিলেন মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ দিদারুল আলম। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোমদন্ডি দরবার শরীফ বোয়ালখালী চট্টগ্রামের নায়েবে সাজ্জাদানশীন সৈয়দ মাওলানা আহমদুল হক মাইজভাণ্ডারী (মা.জি.আ.)। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পটিয়া মাইজভান্ডারি গাউসিয়া হক কমিটির সমন্বয়কারী মুহাম্মদ জাফরুল ইসলাম। সেমিনারে বক্তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ, মানবতা, শান্তি, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে মাইজভাণ্ডারী দর্শনের মানবকল্যাণ, আধ্যাত্মিকতা ও সম্প্রীতির চেতনাকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

সেমিনারে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য শফিকুল ইসলাম, মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় পর্ষদের সদস্য আলী আবরাহা দুলাল, এস এম মহিবুল্লাহ, মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন ও মো. আলমগীর কবির।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ এবং মানুষের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করাই হওয়া উচিত ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনের অন্যতম শিক্ষা। ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিকতার চর্চার মাধ্যমে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।

অনুষ্ঠানে পটিয়া উপজেলার সাংগঠনিক সমন্বয়কারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুহাম্মদ মফিজ উদ্দিন, শহীদুল আলম, শহীদুল ইসলাম, শহীদুর রহমান সোহেল ও মোশাররফ হোসেন বাবু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মুহাম্মদ আলী আকবর সিকদার ও সৈয়দ বাহারুল আলম মাস্টার।

এ ছাড়া পটিয়াসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত সাংগঠনিক সমন্বয়কারী, মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটির বিভিন্ন শাখার সদস্য ও নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকরা জানান, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ও শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর ৩৮তম পবিত্র বার্ষিক ওরশ শরীফকে কেন্দ্র করে এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ ও মানবকল্যাণের শিক্ষা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং মাইজভাণ্ডারী দর্শনের শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতার বার্তা তুলে ধরা।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা