চাঁদপুর থেকে এ কে আজাদ : চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল লঞ্চঘাটে লঞ্চ থেকে মেঘনা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়া মো. রবিনের (৩৬) লাশ ২৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ষাটনল লঞ্চঘাটের পাশের নদী থেকে বিআইডব্লিউটিএ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তাঁর লাশ উদ্ধার করে।
লাশ উদ্ধারের পর তা বেলতলী নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে নেওয়া হয়। নৌ-পুলিশ জানিয়েছে, রোববার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে।
রবিন শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার প্রেমতলা গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে। তিনি নারায়ণগঞ্জে মা-বাবার সঙ্গে বসবাস করতেন। সেখানে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন তিনি। প্রায় দুই মাস আগে তাঁর চাকরি চলে যায়। রবিনের শ্বশুরবাড়ি মতলব উত্তর উপজেলার বাগানবাড়ী ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামের মোল্লাবাড়ি এলাকায়। তাঁর স্ত্রী নাসরিন আক্তারের সঙ্গে তাঁদের সাড়ে চার বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্বৃতি দিয়ে পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরগামী ‘মুকবিল-২’ লঞ্চটি ষাটনল লঞ্চঘাটে যাত্রী নামাচ্ছিল। এ সময় লঞ্চ থেকে নেমে যাওয়ার পর নিজের ব্যাগ লঞ্চে রেখে যাওয়ার কথা মনে পড়ে রবিন আবার লঞ্চে ওঠেন।
পরে লঞ্চ থেকে নামার সময় সেটি পেছনের দিকে চালিয়ে দেওয়া হয়। তখন ঘাটে লাফ দিয়ে নামার চেষ্টা করলে রবিন ভারসাম্য হারিয়ে মেঘনা নদীতে পড়ে যান। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
ঘটনার পর ‘মুকবিল-২’ লঞ্চটি দ্রুত মোহনপুর লঞ্চঘাটের দিকে চলে যায়। পরে মোহনপুর নৌ-পুলিশ লঞ্চটি আটক করে। লঞ্চটির মাস্টার মতলব উত্তর উপজেলার তাতুয়া গ্রামের মনির হোসেন (৫০) ও গ্রিজার দাউদকান্দির বালিয়াধন গ্রামের মো. সুমন মিয়াকে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের চাঁদপুর আদালতে পাঠানো হয়।
রবিন নিখোঁজ হওয়ার পর বেলতলী নৌ-পুলিশ, মোহনপুর নৌ-পুলিশ ও মতলব উত্তর থানা-পুলিশ স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে নদীতে তল্লাশি শুরু করে। পরে চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালায়।
তল্লাশির একপর্যায়ে নদীতে ভাসমান অবস্থায় রবিনের একটি ব্যাগ পাওয়া যায়। ব্যাগের ভেতরে থাকা মোবাইল ফোনের সিমকার্ড অন্য একটি ফোনে দিয়ে বেলতলী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি থেকে যোগাযোগ করা হয়। ফোনটি ধরেন রবিনের স্ত্রী নাসরিন আক্তার। তিনি নম্বরটি তাঁর স্বামীর বলে নিশ্চিত করেন।
স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে শুক্রবারই ষাটনল লঞ্চঘাটে ছুটে আসেন নাসরিন। এক দিন ধরে নদীর পাড়ে স্বামীর সন্ধানে অপেক্ষা করেন তিনি। পরে শনিবার দুপুরে রবিনের লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নাসরিন ও তাঁর স্বজনেরা।
নাসরিন আহাজারি করে বলেন, আমার এহন কী অইবো, আমার মাইয়্যা আয়ান কে দেখবো? কেউ কি সাথে সাথে উঠাইতে পারলেন না?
বেলতলী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক বলেন, রবিনের স্ত্রী নাসরিন আক্তার বাদী হয়ে আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। লাশ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হবে।
ঘটনার খবর পেয়ে ষাটনল লঞ্চঘাট পরিদর্শন করেন মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি। তিনি নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং উদ্ধার কার্যক্রমের খোঁজ নেন। এ সময় প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে প্রায় ২৬ ঘণ্টার তল্লাশি শেষে ষাটনল লঞ্চঘাটের পাশের মেঘনা নদী থেকে রবিনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
