সোমবার | সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
প্রচ্ছদ বিশ্ব কানাডা থেকে ৮ মাসে ৩৪০ বাংলাদেশি অপসারণ, প্রক্রিয়ায় আরও ১,৩৬৮ জন

কানাডা থেকে ৮ মাসে ৩৪০ বাংলাদেশি অপসারণ, প্রক্রিয়ায় আরও ১,৩৬৮ জন

জনতা ডেস্ক : কানাডা থেকে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ৩৪০ বাংলাদেশি নাগরিককে অপসারণ করা হয়েছে। একই সময়ে আরও ১ হাজার ৩৬৮ বাংলাদেশি নাগরিকের অপসারণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি বা সিবিএসএর সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।

৩১ আগস্ট পর্যন্ত হালনাগাদ হিসাবে, ২০২৬ সালে কানাডা থেকে মোট ১৪ হাজার ৮৯৭ বিদেশি নাগরিকের অপসারণ কার্যকর করেছে সিবিএসএ। নাগরিকত্বভিত্তিক তালিকায় ৩৪০ জন নিয়ে বাংলাদেশ রয়েছে সপ্তম অবস্থানে।

তবে বাংলাদেশিদের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে সিবিএসএর চলমান অপসারণের তালিকায়। সরকারি হিসাবে, বর্তমানে ১ হাজার ৩৬৮ বাংলাদেশি ‘রিমুভাল ইন প্রগ্রেস’ তালিকায় রয়েছেন। এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম।

সিবিএসএর ভাষায়, ‘রিমুভাল ইন প্রগ্রেস’ তালিকায় এমন ব্যক্তিরা রয়েছেন, যাদের কানাডা থেকে অপসারণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। এই পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও তার দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করে প্রয়োজনীয় ট্রাভেল ডকুমেন্ট সংগ্রহসহ অপসারণের পথে থাকা বিভিন্ন বাধা সমাধানের চেষ্টা করে সংস্থাটি।

তবে তালিকায় থাকা ১ হাজার ৩৬৮ বাংলাদেশিকেই নিশ্চিতভাবে কানাডা থেকে ফেরত পাঠানো হবে, এমন অর্থ এই পরিসংখ্যানের নয়। সিবিএসএ জানিয়েছে, একজন ব্যক্তির অবস্থান সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে এবং আইনি বা প্রশাসনিক পরিস্থিতি অনুযায়ী তিনি অপসারণ ব্যবস্থার বিভিন্ন তালিকায় স্থানান্তরিত হতে পারেন।

কানাডা থেকে বিদেশি নাগরিকদের অপসারণের কারণও এক নয়। ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে সব দেশের নাগরিক মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি অপসারণ হয়েছে ইমিগ্রেশন আইনের শর্ত পূরণ না করা রিফিউজি ক্লেইমেন্টদের ক্ষেত্রে – সংখ্যাটি ১২ হাজার ৫। এছাড়া সাধারণ ইমিগ্রেশন নন-কমপ্লায়েন্স, অপরাধসংক্রান্ত অগ্রহণযোগ্যতা, ভুল তথ্য দেওয়া এবং অন্যান্য কারণেও অপসারণ কার্যকর হয়েছে।

তবে সিবিএসএর প্রকাশিত তথ্যে ৩৪০ বাংলাদেশির মধ্যে কে কোন কারণে অপসারিত হয়েছেন, তার আলাদা হিসাব নেই। ফলে তাদের সবাই আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যান, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া বা অন্য কোনো একটি নির্দিষ্ট কারণে অপসারিত হয়েছেন – এমন সিদ্ধান্ত সরকারি তথ্য থেকে দেওয়া যায় না।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কানাডার সরকারি হিসাবে সব অপসারণই ‘ডিপোর্টেশন’ নয়। দেশটিতে ডিপারচার অর্ডার, এক্সক্লুশন অর্ডার এবং ডিপোর্টেশন অর্ডার – তিন ধরনের রিমুভাল অর্ডার রয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে সব দেশের নাগরিক মিলিয়ে ৮ হাজার ৫৭৭টি ডিপোর্টেশন অর্ডার, ৩ হাজার ৩০৩টি ডিপারচার অর্ডার এবং ৩ হাজার ১৭টি এক্সক্লুশন অর্ডার কার্যকর হয়েছে।

তাই বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে ‘৩৪০ জনকে ডিপোর্ট করা হয়েছে’ বলার চেয়ে ‘৩৪০ বাংলাদেশিকে অপসারণ করা হয়েছে’ বলা বেশি নির্ভুল। কারণ নাগরিকত্বভিত্তিক সরকারি টেবিলে ওই ৩৪০ জনের মধ্যে কোন ধরনের রিমুভাল অর্ডার কতটি ছিল, তা আলাদাভাবে দেখানো হয়নি।

সিবিএসএর হিসাবে, ৩১ আগস্ট পর্যন্ত কানাডায় সব দেশের নাগরিক মিলিয়ে ৪৯ হাজার ৫৩৬ জন ‘রিমুভাল ইন প্রগ্রেস’ তালিকায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৩৬৮ জন বাংলাদেশি। অর্থাৎ কানাডার অভিবাসন আইন প্রয়োগের চলমান প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশিও রয়েছেন।

সূত্র: কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা