ককসবাজার থেকে এইচ এন আলম : দেশে পর্যাপ্ত লবণ মজুদ ও উৎপাদন থাকার পরও বিদেশ থেকে লবণ আমদানির অনুমতি দেওয়ার উদ্যোগে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে উপকূলীয় লবণচাষিদের মধ্যে। তাদের অভিযোগ, দেশীয় উৎপাদন দিয়ে দেশের চাহিদা পূরণ সম্ভব হলেও আমদানির সুযোগ তৈরি করা হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কক্সবাজারসহ উপকূলীয় এলাকার লবণচাষিরা।
লবণচাষিদের দাবি, আমদানির আগে দেশে প্রকৃত মজুদ, চলতি মৌসুমের উৎপাদন, শিল্পকারখানার চাহিদা ও বাজার পরিস্থিতির নিরপেক্ষ হিসাব প্রকাশ করতে হবে। দেশীয় উৎপাদন দিয়ে চাহিদা মেটানো সম্ভব হলে লবণ আমদানি বন্ধ রাখতে হবে।
চাষিদের অভিযোগ, দেশে লবণের চাহিদা মেটানোর পরও বিপুল পরিমাণ লবণ মজুদ থাকার দাবি রয়েছে। এর মধ্যেই নতুন করে লবণ আমদানির অনুমতি দেওয়া হলে বাজারে দেশীয় লবণের দাম কমে যেতে পারে।
এতে উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে ক্ষতির মুখে পড়বেন চাষিরা। দীর্ঘদিন ধরে লোকসান হলে অনেকেই লবণ চাষ থেকে সরে যেতে বাধ্য হতে পারেন।
কক্সবাজারের কুতুবদিয়া, মহেশখালী, টেকনাফ, সদর, ঈদগাঁও, পেকুয়া এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালীসহ উপকূলীয় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে লবণ উৎপাদন হয়ে আসছে। প্রাকৃতিকভাবে লবণ উৎপাদনের উপযোগী এসব এলাকার হাজার হাজার পরিবার বছরের পর বছর লবণ চাষের সঙ্গে জড়িত। ফলে লবণশিল্পের সঙ্গে তাদের জীবিকা সরাসরি সম্পর্কিত।
চাষিদের ভাষ্য, একদিকে সরকার দেশীয় কৃষি ও শিল্পকে উৎসাহিত করার কথা বলছে, অন্যদিকে উৎপাদন মৌসুমে বিদেশি লবণ আমদানি করা হলে স্থানীয় উৎপাদকরা বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবেন না। এতে ভবিষ্যতে দেশীয় চাহিদা পূরণে আমদানিনির্ভরতা আরও বাড়তে পারে।
বিসিকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে পরিশোধিত লবণের মোট চাহিদা ধরা হয়েছে প্রায় ২১ লাখ টন। এর মধ্যে ভোজ্য লবণসহ বিভিন্ন খাতে চাহিদা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে উৎপাদন ও মজুদের প্রকৃত চিত্র বিবেচনা করেই আমদানির প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা উচিত।
এদিকে লবণ আমদানির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও বিসিকের আমদানি-সংক্রান্ত লাইসেন্সের বিধান রয়েছে। চাষিদের দাবি, আগামী ১ অক্টোবর থেকে প্রস্তাবিত লবণ আমদানি কার্যক্রম শুরুর আগে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
লবণচাষিরা আরও বলেন, আমদানির প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু ব্যবসায়ীদের চাহিদা নয়, দেশীয় উৎপাদকদের স্বার্থও বিবেচনায় নিতে হবে। প্রকৃত মজুদ, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা, বাস্তব উৎপাদন ও শিল্পখাতের চাহিদার সমন্বিত হিসাব প্রকাশ করে স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
তাদের প্রশ্ন—দেশে পর্যাপ্ত লবণ উৎপাদন ও মজুদ থাকার পরও যদি আমদানি অব্যাহত থাকে, তাহলে এর সুফল কারা পাচ্ছেন? আর ক্ষতির বোঝা কেন দেশের লবণচাষিদের বহন করতে হবে?
চাষিদের দাবি, দেশীয় লবণশিল্প রক্ষায় আমদানির আগে প্রকৃত প্রয়োজন যাচাই, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। অন্যথায় উপকূলীয় অঞ্চলের লবণচাষ ও এর সঙ্গে জড়িত লাখো মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
