বুধবার | সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
প্রচ্ছদ বিশ্ব মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হলেন ফাতিমা ইজ্জাহরা এল মানসুরি

মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হলেন ফাতিমা ইজ্জাহরা এল মানসুরি

জনতা ডেস্ক : মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়েছন ফাতিমা ইজ্জাহরা এল মানসুরি। গত কাল বুধবার উত্তর আফ্রিকার এ ধেমটির রাজা সিদি মোহাম্মদ বিন হাসান আল-আলাউই ওরফে ষষ্ঠ মোহাম্মদ ফাতিমা ইজ্জাহরা এল মানসুরিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।

গত সপ্তাহে মরক্কোর পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ বা প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচন হয়েছে। সেই নির্বাচনে পার্লামেন্টের ৩৯৫টি আসনের মধ্যে একক দল হিসেবে সর্বোচ্চ ৯৭টি আসনে জয় পেয়েছে ফাতিমা ইজ্জাহরার রাজনৈতিক দল অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মর্ডানিটি পার্টি (পিএএম)। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল থেকে ৩১টি আসনে এগিয়ে এ বিজয় লাভ করেছে পিএমএম।

দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বুধ বার রাজার কাছ থেকে নিয়োগপ্রাপ্তির পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বক্তব্যে ফাতিমা ইজ্জাহরা বলেন, “এটা ঐতিহাসিক। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম একজন নারী সরকারকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে। এটা শুধু আমার নয়, মরক্কোর সব নারীদের জন্য গর্বের।”

“আজ থেকেই আমরা কাজ শুরু করছি। অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার আগে আমরা প্রথমে দলের অভ্যন্তরেই আলোচনা শুরু করব”, বলেছেন ফাতিমা।

সুস্পষ্ট ও চূড়ান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় পিএএমকে এখন অন্যান্য দলের সঙ্গে জোট গঠন করতে হবে; তবে মরক্কোর সংবিধান অনুসারে প্রধানমন্ত্রী সরকারপ্রধান হলেও অনুসারে দেশটির জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে কোনো নীতি-নির্ধারণের ক্ষেত্রে রাজার আদেশই চূড়ান্ত।

কে এই ফাতিমা ইজ্জহরা এল মানসুরি

পেশাদার আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ ফাতিমা ইজ্জাহরা এল মানসুরির জন্ম ১৯৭৬ সালে, মরক্কোর রেহমানা প্রদেশে। তার বাবা আবদেলরহমান এল মানসুরি মরক্কোর ঐতিহাসিক শহর মারাকেশের ডেপুটি গভর্নর ছিলেন, পরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে মরক্কোর রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

৫০ বছর বয়সী ফাতিমার শিক্ষাজীবনের একটি বড় অংশ কেটেছে ফ্রান্সে। দেশে ফিরে আইনজীবী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন তিনি। তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ২০০৮ সালে। সে বছর পিএএমে যোগ দেন তিনি এবং পরের বছর ২০০৯ সালে মারাকেশের মেয়র নির্বাচনে জয়ী হয়ে ঐতিহাসিক এ শহরের প্রথম নারী মেয়র হন ফাতিমা। ২০১৫ সাল পর্যন্ত মারাকেশের মেয়র ছিলেন তিনি।

মারাকেশের মেয়রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২০২০ সাল পর্যন্ত তেমন গুরুত্বপূর্ণ কোনো রাষ্ট্রীয় পদে দেখা যায়নি ফাতিমাকে। ২০২১ সালে তিনি মরক্কোর সাবেক প্রধানমন্ত্রী আজিজ আখানচুচের জোট সরকারে আবাসনমন্ত্রী হন। ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এ পদেই ছিলেন তিনি।

সূত্র : এএফপি

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা