আমতলী (বরগুনা) থেকে এসএম সুমন রশিদ : যতই দিন সামনে আগাচ্ছে ততই স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে বরগুনার আমতলী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের গণসংযোগ ও মতবিনিময় ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে সরব হয়ে উঠেছে। বিএনপির তৃণমূলের একাংশের দাবি, দলের দুঃসময়ে মাঠে থাকা পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের মধ্য থেকে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হোক। এ ক্ষেত্রে তাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ তোফাজ্জেল হোসেন।
আজ সোমবার সন্ধ্যা ৬ টায় উপজেলার গুলিসাখালি ইউনিয়নের উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ন আহবায়ক মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে ইউনিয়নের খেকুয়ানি থেকে শুরু করে গুলিশাখালি, হরিদ্রাবারিয়া, কলাগাছিয়া,গোজখালি ও বাইনবুনিয়া গ্রামের ছোট ছোট বাজারগুলোসহ পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে নির্বাচনীয় গণসংযোগ ও পথসভা করেছেন। এতে প্রায় শতাধিক নেতাকর্মীদের নিয়ে মোটরসাইকেলে শোভাযাত্রা করেন।প্রায় ৪ ঘন্টা সময় ধরে এ গনসংযোগ করেন।
তিনি গত ২৫ বছরের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, জেল-জুলুম আর ত্যাগের মহিমায় তিনি আজ গুলিশাখালীর সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। এবার তিনি ইউনিয়নবাসীর সেবা করার জন্য চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাচ্ছেন। মোহাম্মদ তোফাজ্জেল হোসেন ১নং গুলিশাখালী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের খেকুয়ানী গ্রামের মৃত আঃ গনি হাওলাদার এর ছেলে।শিক্ষাগত যোগ্যতায় তিনি বি.এ পাশ।এলাকায় তিনি একজন সৎ, নির্লোভ ও সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ছাত্র জীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। তার রাজনৈতিক পথচলা দীর্ঘ ২৫ বছরের ও সংগ্রামমুখর।
গুলিশাখালী ইউনিয়নের খেকুয়ানি গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ গনি মোল্লা ওকলাগাছিয়ার মোহাম্মদ শহিদ মোল্লা বলেন, “দলের দুঃসময়ে তোফাজ্জেল ভাইকে আমরা সব সময় মাঠে পেয়েছি। সে আমাদের সুখে-দুঃখে থাকে।”তিনি একজন ভালো মানুষ “আমরা তার মতো সৎ চেয়ারম্যান চাই, যে আমাদের সরকারি ভাতা মেরে খাবে না।” তার ভাই মরহুম এবিএম সিদ্দিকুর রহমান দীর্ঘদিন ১নং গুলিশাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে সৎ ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আমাদের আরো দাবি গুলিশাখালী ইউনিয়নের ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের লোকজন যারা রয়েছে। তারা এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারে সেজন্য নেতাকর্মীদের প্রতি সজাগদৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন গনসংযোগ ও শোভাযাত্রায় ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন,আমি ২০০২ সালে তিনি ১নং গুলিশাখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব শুরু করেন। সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে ২০০৪ সালে তিনি পুনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৩ সালের ১১ অক্টোবর তিনি ইউনিয়ন বিএনপির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। সভাপতির ২০২৪ হইতে ২০২৬ পর্যন্ত বর্তমানে তিনি আমতলী উপজেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের বিগত ১৭ বছরের শাসনামল ছিল আমার জন্য এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষা।
আরো বলেন , শুধুমাত্র বিএনপি করার অপরাধে তার বিরুদ্ধে আমতলী থানায় ২০১৩, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে একাধিক মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দায়ের করা হয়। তিনি বলেন, “এসব মামলায় আমাকে একাধিকবার রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে, ৪ বার কারাবরণ করতে হয়েছে। মাসের পর মাস বাড়ি ছাড়া ছিলাম। কিন্তু আমি দলের আদর্শ বিক্রি করিনি, দল ছেড়ে পালাইনি।
