এম.আর.প্রিন্স ( বরিশাল ব্যুরো ) : সেবার মানোন্নয়ন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বরিশাল জেলা প্রশাসক কর্তৃক দুই কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে । নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণ, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে বরিশাল জেলা প্রশাসন । সরকারি সেবা প্রদানে ইচ্ছাকৃতভাবে দায়িত্বে অবহেলা, অযৌক্তিক বিলম্ব এবং সেবাগ্রহীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে দুই কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে । গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জেলা প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয় ।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেকর্ড রুমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদনকারীকে খতিয়ান সরবরাহ করতে না পারার অভিযোগে দায়িত্বপ্রাপ্ত রেকর্ড কিপারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি সেবা পেতে বিলম্বের কারণে নাগরিক ভোগান্তি সৃষ্টি হওয়ায় এ বিষয়ে তাঁর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
সুত্র থেকে জানা যায়, রহমতপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সেবাগ্রহীতাকে চাহিদা অনুযায়ী খতিয়ানের কপি সরবরাহ না করা এবং তাঁর সঙ্গে অসদাচরণ ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তাকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন কর্তৃক নোটিশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের জবাব পর্যালোচনা করে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাগরিক সেবায় স্বচ্ছতা আনয়নে জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগ নাগরিক বান্ধব প্রশাসন প্রতিষ্ঠা, সরকারি দপ্তরে সেবার মানোন্নয়ন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন অভিজ্ঞ মহল । সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছেন, ভূমি-সংক্রান্ত সেবা পেতে সাধারণ মানুষ যেন অযথা হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের তদারকি জোরদার করার বিষয়টি যথাযথ ও দৃষ্টান্ত মূলক ।
বর্তমান বরিশাল জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বার্তা দেওয়া হচ্ছে , নাগরিকদের মানসম্মত ও হয়রানিমুক্ত সেবা পাওয়া ন্যায্য অধিকার। এ অধিকার নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব ও কর্তব্য । দায়িত্ব পালনে অবহেলা, সেবা প্রদানে অযৌক্তিক বিলম্ব কিংবা সেবাগ্রহীতার সঙ্গে খারাপ আচরণ বরদাস্ত করা হবে না । যে কোন অভিযোগের ক্ষেত্রেই তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগের সত্যতা প্রমানিত হলে বিধি অনুযায়ী কঠোর ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বরিশাল জেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগ দৃষ্টান্ত হিসেবে নিয়ে সমগ্র দেশব্যাপী এটা অব্যাহত থাকলে সরকারি সেবা সম্পর্কে মানুষের আস্থা বাড়বে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল জনবান্ধব হয়ে দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি ঘটবে ।
