মনোয়ার হোসেন সোহেল ঘাটাইল টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও তাঁর সহধর্মিণী বেগম আলেমা খাতুন ভাসানীর কর্মময় জীবন নিয়ে আলোচনায়, গুণীজনদের সম্মান জানানো এবং তাঁদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে, বলে মন্তব্য করেছেন টাঙ্গাইল জেলার আইনশৃঙ্খলা ও অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম। তিনি বলেন, মওলানা ভাসানীর রেখে যাওয়া কর্ম ও আদর্শ ধারণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এ লক্ষ্য অর্জনে মওলানা ভাসানীর কর্মময় জীবন আমাদের জন্য প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় টাঙ্গাইলের সন্তোষ দরবার হলে মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের আয়োজনে বেগম আলেমা খাতুন ভাসানীর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, পৃথিবীর যেসব গুণী ব্যক্তি তাঁদের কর্ম ও অবদানের মাধ্যমে সর্বজনশ্রদ্ধেয় হয়ে উঠেছেন। তাঁদের সাফল্যের পেছনে পরিবারের, বিশেষ করে জীবনসঙ্গীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকে। মওলানা ভাসানীর জীবনেও তাঁর সহধর্মিণী বেগম আলেমা খাতুন ভাসানীর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি শিক্ষানুরাগী ছিলেন এবং মওলানা ভাসানীর বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সমর্থন ও সাহস জুগিয়েছেন। বেগম আলেমা খাতুন ভাসানী তাঁর বাবার কাছ থেকে পাওয়া জমি জনকল্যাণমূলক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কাজে ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি মানুষের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে অবদান রেখেছেন। গুণীজনদের সম্মান জানানো এবং তাঁদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। গত ১৭ বছরে মওলানা ভাসানী ও আলেমা খাতুন ভাসানীর স্মৃতিবিজড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুদৃষ্টি দেওয়া তো দূরের কথা, অচল অবস্থায় নিয়ে রাখা হয়েছিল। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠিত সরকার গুণীজনদের সম্মান জানাতে চায়। তাঁদের স্মৃতিবিজড়িত প্রতিষ্ঠানগুলো যেন প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সঠিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।
তিনি আরও বলেন, মওলানা ভাসানী ও বেগম আলেমা খাতুন ভাসানীর স্মৃতিবিজড়িত প্রতিষ্ঠান সংরক্ষণের পাশাপাশি তাঁদের রেখে যাওয়া কর্ম ও আদর্শও ধারণ করতে হবে। কৃষক, শ্রমিক, তাঁতি ও শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা, শ্রমের মর্যাদা, ন্যায্য সুযোগ এবং জীবনমান উন্নয়নের বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের প্রতি মওলানা ভাসানী ও আলেমা খাতুন ভাসানীর দায়বদ্ধতা এসব দায়িত্ব পালনে আমাদের প্রেরণা জোগায়।
মওলানা ভাসানীর দেখানো ন্যায় ও আদর্শের পথে টাঙ্গাইলকে পরিচালিত করতে হবে, অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি বলেন, মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক জীবন থেকে ত্যাগ, জনকল্যাণ ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার শিক্ষা পাওয়া যায়। রাজনীতি মানে মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং নিজের স্বার্থ ত্যাগ করা। বেগম আলেমা খাতুন ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে তিনি বলেন, টাঙ্গাইলের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে এবং মওলানা ভাসানীর দেখানো ন্যায় ও আদর্শের পথে টাঙ্গাইলকে পরিচালিত করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী টুকু বক্তব্যে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশপ্রেমের আদর্শ ধারণ করে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশপ্রেম ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও দেশপ্রেমকে ধারণ করে দেশ গঠনে কাজ করছেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মেয়ে মাহমুদা খানম ভাসানী, ন্যাপ ভাসানীর সভাপতি হাসরত খান ভাসানী, ভাসানী পরিষদের সদস্য সচিব আজাদ খান ভাসানী, ভাসানীর নাতি আবু হানিফ খান ভাসানী, মুসাফির খানার সাধারণ সম্পাদক আলীম উদ্দিন তালুকদার প্রমুখ।
মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ও জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান এবং টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী। এর আগে দুই প্রতিমন্ত্রীসহ অতিথিরা টাঙ্গাইলের সন্তোষে অবস্থিত মওলানা ভাসানীর মাজারে গিয়ে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও তাঁর সহধর্মিণী বেগম আলেমা খাতুন ভাসানীর কবর জিয়ারত করেন। তাঁরা পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেন। পরে তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে বেগম আলেমা খাতুন ভাসানীকে নিয়ে লেখা একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
প্রসঙ্গত, আলেমা খাতুন ভাসানী পাঁচবিবির জমিদার-কন্যা ছিলেন। ২০০১ সালের ৪ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মওলানা ভাসানীর মাজার শরীফের পাশেই তাকে সমাহিত করা হয়। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্রী হলের নামকরণ করা হয়েছে এই মহীয়সী নারীর সম্মানে।
