মাসুদ রানা, মেহেরপুর প্রতিনিধি: মেহেরপুরের গাংনীতে কৃষক মো. কামাল উদ্দিনের সোলার প্যানেলের তিনটি প্লেট চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার ভবানীপুর মাঠে এ চুরির ঘটনা ঘটে। এর আগে তিন মাস আগেও একই স্থান থেকে তাঁর সোলার প্যানেলের আরও তিনটি প্লেট চুরি হয়েছিল। বারবার চুরির ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকরা দৈনিক জনতাকে জানান, বর্তমানে ধানের ভরা মৌসুম চলছে। অনেক জমিতে ধানের শিষ বের হয়েছে। এ সময়ে জমিতে নিয়মিত সেচ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু সোলার প্যানেলের প্লেট চুরি হওয়ায় সেচ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। দ্রুত সেচের ব্যবস্থা করা না গেলে ধানসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সোলার প্যানেলের মালিক কৃষক মো. কামাল উদ্দিন বলেন, সকালে মাঠে এসে দেখি, আমার সোলার প্যানেলের তিনটি প্লেট চুরি হয়ে গেছে। তিন মাস আগেও একই জায়গা থেকে তিনটি প্লেট চুরি হয়েছিল। বারবার এভাবে চুরি হলে আমি কীভাবে আবাদ করব, আর অন্য কৃষকদের জমিতে কীভাবে সেচ দেব?
তিনি আরও বলেন, একেকটি সোলার প্যানেলের প্লেটের দাম ২০ হাজার টাকা। তিন মাসের ব্যবধানে তাঁর ছয়টি প্লেট চুরি হয়েছে। এতে তাঁর প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর বাইরে অন্যান্য খরচও রয়েছে। অনেক কষ্টে ধারদেনা করে সোলার প্যানেল স্থাপন করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, কৃষি বিভাগ থেকে সহযোগিতা পেলে উপকৃত হবেন। পাশাপাশি চুরির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
ধানচাষি কৃষক মো. পাতুয়ালী বলেন, আজ সকালে তাঁর ধানের জমিতে সেচ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মাঠে এসে দেখেন, সোলার প্যানেলের প্লেট চুরি হয়ে গেছে। ফলে সেচ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। দ্রুত সোলার প্যানেলের প্লেটের ব্যবস্থা করা না হলে তাঁরা ক্ষতির মুখে পড়বেন। সময়মতো সেচ দিতে না পারলে ধানের ফলন কমে যাওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য ফসলও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এ বিষয়ে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী জানান, তাঁরা ঘটনাটি সম্পর্কে জেনেছেন এবং খোঁজখবর নিচ্ছেন। চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এ বিষয়ে লিখিত আবেদন পেলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। কৃষকদের পাশে থেকে তাঁদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হয় বলেও জানান তিনি।
