পিরোজপুর থেকে এস,এম সিপার : কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ১০টি মরদেহের মধ্যে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার শাপলেজা ইউনিয়নের
বেতমোর রাজপাড়া গ্রামের খানবাড়ীর মোস্তফা কামালের মেয়ে স্কুল শিক্ষিকা নাসরিন জাহান মুক্তার (২৯) মরদেহ শনাক্ত করতে পারেনি তার পরিবার। বিষয়টি শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত দশটার দিকে মুক্তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল নিশ্চিত করেন। তিনি ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি।
শনিবার সকালে ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকত এলাকার ওই রিসোর্টে আগুন লাগে। এ ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিয়া কবির (৩৩) ও ফাইজান আহমেদসহ অন্যরা। তবে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে মুক্তার মরদেহ শনাক্ত করতে না পারায় তার পরিণতি নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি পরিবারের।
নাছরিন জাহান মুক্তা তিনি ঢাকার সাভারের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্বপ্ন বিলাস স্কুলে শিক্ষকতা করতেন।
পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দুদিন আগে ছুটিতে দুই বান্ধবীকে নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে যান মুক্তা। তারা পাটুয়ারটেক সৈকত এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ওঠেন। শনিবার সকালে মুক্তার দুই বান্ধবী সৈকতে হাঁটতে যাওয়ার সময় তাকেও সঙ্গে যেতে বলেন। তবে মুক্তা ঘুমাবেন বলে রিসোর্টের কক্ষে থেকে যান। বান্ধবীরা রিসোর্ট থেকে বের হওয়ার প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যে সেখানে আগুন লাগে।খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন। সকাল সোয়া ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো হয়।
মুক্তার ফুফাতো ভাই ও মঠবাড়িয়া রুস্তম আলী ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাজী বলেন, উদ্ধার হওয়া ১০টি মরদেহের মধ্যে তারা এখনও মুক্তার মরদেহ শনাক্ত করতে পারেননি। এ বিষয়ে খোঁজ নিতে তারা থানায় যাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, বোন-জামাই বর্তমানে কথা বলার মতো পরিস্থিতিতে নেই। পরিবারের সবাই চরম উদ্বিগ্ন। মরদেহ শনাক্ত করতে পারলে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসব।
মঠবাড়িয়া পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির বর্তমান সদস্য কে এম হুমায়ুন কবির বলেন, তারা মুক্তার পরিবারের খোঁজ নিয়েছেন। উপজেলা বিএনপির নেতারা গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হলে দলের নেতারা জানাজায় অংশ নিবেন।
এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, তারা ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবেন।
