সোমবার | অক্টোবর ১৯, ২০২৬
প্রচ্ছদ বর্তমান নেসকো’র এমডি এর অদক্ষ ব্যবস্থাপনায় সংকটে উত্তরবঙ্গের বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি নেসকো

বর্তমান নেসকো’র এমডি এর অদক্ষ ব্যবস্থাপনায় সংকটে উত্তরবঙ্গের বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি নেসকো

 

স্টাফ রিপোর্টার : ফ্যাসিস্ট সরকারের বিতর্কিত মশিউর রহমান এখন উত্তরবঙ্গের বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো) এর বর্তমান এমডি। এমন একজন অথর্ব এমডি (বিভিন্ন মিটিংয়ে ঘুমিয়ে পড়ার দৃশ্য) অধীন নেসকোর কার্যক্রম প্রায় অচল অবস্থায় পড়েছে। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬টি জেলা শহর ও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উপজেলা শহরের প্রায় ২২ লাখ গ্রাহককে ৬০ টি বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ এবং ইলেকট্রিক সাপ্লাই ইউনিটের মাধ্যমে জরুরি বিদ্যুৎ সেবা প্রদান করে আসছে। কিন্তু আওয়ামীপন্থী বর্তমান এমডি মশিউর রহমানের অব্যবস্থাপনায় নেসকো প্রায় অচলঅবস্থায় পড়েছে।

নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (নওপাজেকো) এর খোরশেদ সিন্ডিকেটের সেই মশিউর রহমান খুলনার রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ছিলেন । দুদক সূত্রে জানা গেছে , নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (নওপাজেকো) দুটি বিদ্যৎ প্রকল্পের পরিচালকের বিরুদ্ধে ৮ হাজার কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকের পরিচালক মোঃ আবুল হাসনাতকে পরিচালক করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।কমিটি এরই মধ্যে চিঠি দিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে আলোচ্য প্রকল্পের বিভিন্ন তথ্য চেয়েছে।
রূপসার আগে খুলনার আরও একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পিডি ছিলেন মশিউর রহমান। খুলনা ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্টের পিডি হিসেবেও তাকে নিয়োগ দিয়েছিলেন সাবেক এমডি খোরশেদ
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই দুই প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়ম, প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের আপত্তি থাকলেও ইপিসি (ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন) ঠিকাদারকে অবৈধ সুবিধা প্রদান, প্রভাব খাটিয়ে সাবেক এমডির নিকটাত্মীয়কে প্রকল্পের নির্মাণকাজ দেওয়া, সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতাকে কাজ দেওয়া, চুক্তি অনুযায়ী আউটপুট না এলেও ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
বিতর্কিত দুইটি প্রকল্পের (খুলনা ২২৫ মেগাওয়াট ও রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রকল্প) বিষয়ে অবহিত করে মন্তব্য জানতে চাইলে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, ‘আলোচিত এই দুই প্রকল্পের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে দুদকও বিভিন্ন অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করেছে। সুতরাং এমন বিতর্কিত কাউকে সরকারের বিবেচনায় রাখার সুযোগ নেই। তার মতো একজন ব্যক্তি নর্থওয়েস্টের এমডি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছি না।’ ড. এম শামসুল আলম স্যারের কথাই সঠিক হয়েছে , তিনি নর্থওয়েস্টের এমডি হিসেবে নিয়োগ পাননি, কিন্তু এক অজানা কারণে তিনি নেসকোর এমডি হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন।
নেসকোতে যোগদানের পরে বিগত সরকারের আমলে যারা (আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তা) সুবিধা নিয়েছে, বর্তমান এমডি মশিউর রহমান নেসকো’র সেই সমস্ত কর্মকর্তাদেরকে নিয়ে নেসকো পরিচালনা করার চেস্টা করছে। ফলে বর্তমান সরকারের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছে, যাতে করে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়।

বর্তমান অভিযোগসমূহ:
১.নেসকোর প্রধান কার্যালয়ে অনিয়মিত উপস্থিতি: প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম চার মাসে তিনি রাজশাহীর নেসকো প্রধান কার্যালয়ে মাত্র চার দিন অফিস করেছেন—এমন অভিযোগ পেপারে প্রকাশিত হয়েছিল।
তিনি প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাসহ ক্রয় প্রক্রিয়ায় আওয়ামীপন্থী পূর্বের এমডি এর বলয়ের তিনজন দুর্নীতিবাজ উদ্ধতন প্রকৌশলীদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছেন। উল্লেখিত উদ্ধতন প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে এক/একাধিক অডিট আপত্তি আছে।
২.ঢাকার লিয়াজোঁ অফিস থেকে কার্যক্রম পরিচালনা: রাজশাহীর পরিবর্তে ঢাকার বিজয়নগরের লিয়াজোঁ অফিস থেকে নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে ফাইল নিষ্পত্তিতে বিলম্ব, মাঠপর্যায়ের সিদ্ধান্তে ধীরগতি ও সমন্বয়হীনতার অভিযোগ করা হয়েছে।উল্লেখ্য, বিজয়নগরের লিয়াজোঁ অফিসেও উনি দুপুর ১২.০০ টার আগে আসেন না।
৩.অতিরিক্তসভা আয়োজন ও সম্মানী গ্রহণ: ঢাকায় মাসে ১৫–২০টি সভা আয়োজন এবং সভাপ্রতি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও এমডির সম্মানী গ্রহণের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
৪. টিএ/ডিএ গ্রহণ: নির্ধারিত কর্মস্থল রাজশাহী হলেও ঢাকায় অবস্থানের জন্য নিয়মিত TA/DA দাবি করার অভিযোগ রয়েছে।
৫. সরকারি গাড়ি ব্যবহারের পাশাপাশি ভ্রমণ ভাতা গ্রহণ: ঢাকা-রাজশাহী যাতায়াতে অফিসিয়াল গাড়ি ব্যবহারের পরও একই সফরের জন্য ভ্রমণসংক্রান্ত অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর পূর্ণ বিল-ভাউচার প্রকাশ্যে আসেনি।
৬. পছন্দের ঠিকাদারদের প্রতি স্বজন প্রীতি : প্রয়োজনীয় মালামাল ক্রয়ে দীর্ধসুত্রতা, ঠিকাদারের বিল প্রদানে বিলম্ব, নথি সময়মতো অনুমোদন না দেওয়া , বগুড়া অফিসে ঠিকারদের সাথে গোপন আঁতাত, পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া ইত্যাদির অভিযোগ রয়েছে।
বিগত ২০১৬ সাল থেকে নেসকোতে হরিলুট কান্ডে নেসকো’র সাবেক এমডি জাকিউল ইসলাম (নসরুল হামিদের ঘনিষ্ঠ) এর সহযোগীদের (মোঃ মিজানুর রহমান, আবু হেনা, হামিদুর রহমান গং) কে নিয়েই বর্তমান এমডি মশিউর রহমান (আওয়ামীপন্থী) নেসকোকে দিন দিন এক অব্যবস্থপনার মহাসমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে।উল্লেখ্য, আবু হেনা ও হামিদুর রহমানকে সিনিয়রিটি ব্যতিরেখে পদোন্নতি দিয়ে প্রধান প্রকৌশলী করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নেসকোর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দাবী, প্রয়োজনে বর্তমান অসৎ, অযোগ্য, অথর্ব, অদক্ষ ও অপেশাদার এমডি মশিউর রহমানকে অব্যাহতিদান পূর্বক একজন সৎ, যোগ্য, দক্ষ ও পেশাদার এমডি নিয়োগ দানের মাধ্যমে নেসকোর কার্যক্রমকে সচল করা একমাত্র দাবি।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা