নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি : প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, বরং ন্যায়বিচার, সাম্য ও সম্প্রীতির ভিত্তিতে বাংলাদেশ গড়তে চায় বিএনপি এমন মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। তিনি বলেছেন, “আমরা জুলুমের বিপরীতে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করেছি, প্রতিশোধের বিপরীতে প্রতিশোধ নিইনি। বরং প্রতিশোধের বিপরীতে পুষ্প ছড়িয়ে দিয়েছি।”
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, অতীতে যারা ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছিল, তারাও এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে, কিন্তু তাদের জুলুম ও নির্যাতনের প্রতিশোধ নেয়নি বিএনপি। সেই পরিবেশ বজায় রাখতে চান তাঁরা। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে ন্যায়বিচার, সহাবস্থান ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করাই তাঁদের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, সুবর্ণচর অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ একটি এলাকা। এখানকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি শুনে আসছেন। কিন্তু এলাকার রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা উন্নয়নের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্ব দিতে হবে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এ দেশের সব মানুষের পরিচয় বাংলাদেশি। এখানে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো বিভাজন কিংবা বৈষম্য থাকা উচিত নয়। ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে কোনো জনগোষ্ঠীকে বিভক্ত করা কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে বিশেষ সুবিধা আদায়ের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। প্রত্যেক নাগরিক যেন নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপন করতে পারেন, সে পরিবেশ বজায় রাখতে হবে।
সুবর্ণচরের দুর্গাপূজার নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরে নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, উপজেলায় ৩২টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উদ্যাপিত হচ্ছে। তাঁর দাবি, এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেনি। এ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে রাজনৈতিক দল, প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।
সুবর্ণচরের কয়েকটি মন্দিরে আগামী চার বছরের মধ্যে প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন নাছির উদ্দীন নাছির। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে কোনো একক ব্যক্তির পক্ষে সবকিছু করা সম্ভব নয়। সরকার, রাজনৈতিক দল ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
নিজেকে সুবর্ণচরের সন্তান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকায় অবস্থান করলেও এলাকার মানুষের প্রয়োজনে পাশে থাকার চেষ্টা করেন তিনি। মানুষের কল্যাণে সহযোগিতার এ প্রচেষ্টা আমৃত্যু অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে নাছির উদ্দীন নাছির বলেন,বৃহত্তর নোয়াখালী জেলা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাতৃভূমি। এ অঞ্চলের মানুষের প্রতি তাঁর বিশেষ টান রয়েছে। ভবিষ্যতে তারেক রহমানকে সুবর্ণচরে নিয়ে আসার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে নাছির উদ্দীন নাছির মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ফল পৌঁছে দেন তিনি। পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সুবর্ণচরের ৩২টি পূজামণ্ডপে নগদ অর্থ অনুদান দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুবর্ণচর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ বাবুল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সহসভাপতি শহিদ এলাহী, নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এন বি এস রাসেল, সুবর্ণচর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জামাল উদ্দিন আহমেদসহ বিএনপি ও ছাত্রদলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
