স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, নৈতিকতাভিত্তিক সমাজ গঠন এবং রাষ্ট্রীয় জীবনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাকে ইসলামী শিক্ষা ও আদর্শের আলোকে বিজ্ঞানভিত্তিকভাবে সাজানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের আলোচনা সভায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। একই সঙ্গে দুর্নীতিমুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে শরিয়া আইন বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের মরহুম সেক্রেটারি জেনারেল ড. মুহাম্মদ এনামুল হক আজাদের জীবন ও কর্মের ওপর আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তারা এসব কথা বলেন। ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের আমির ড. মাওলানা মুহাম্মদ ঈসা শাহেদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. আবুল হাসান মোহাম্মদ সাদেক।
আলোচনায় অংশ নেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির মওলানা আবদুর রব ইউসুফী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মওলানা আহমদ আলী কাসেমী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের জয়েন্ট সেক্রেটারি মওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার অধ্যাপক প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান আশরাফী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মওলানা জালাল উদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ রশীদুল হাসান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের অধ্যাপক ড. জাফর আহমদ ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানের শুরুতে মরহুম ড. মুহাম্মদ এনামুল হক আজাদের কর্মময় জীবনের ওপর প্রবন্ধ পাঠ করেন ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের তালিম ও তারবিয়্যত সম্পাদক ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. ইসমাঈল হোসেন ও প্রাক্তন ছাত্রনেতা আবদুর রহমান। এ সময় আরও বক্তব্য দেন ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের নায়েবে আমির ড. একেএম মাহবুবুর রহমান, অধ্যক্ষ এস এম আব্দুল হামিদ, সেক্রেটারি জেনারেল মওলানা ইসমাঈল ফারুক, কাজী আবু বকর সিদ্দিক ও মওলানা মাহফুজুর রহমানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা বলেন, ড. মুহাম্মদ এনামুল হক আজাদ ছিলেন একজন প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ ও ইসলামী চিন্তাবিদ। তিনি এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রাখা, ইসলামী শিক্ষার প্রসারে কাজ করা এবং গবেষণালব্ধ চিন্তাভাবনা সাধারণ পাঠকের কাছে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
তাঁরা বলেন, মওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীমের চিন্তা ও জীবন নিয়ে পিএইচডি গবেষণা করতে গিয়ে ড. এনামুল হক আজাদ ইসলামী আদর্শ ও চিন্তাধারায় সমৃদ্ধ হন। পরবর্তী সময়ে এসব চিন্তা ও চেতনাকে তিনি নিজের জীবনের সাধনা ও লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন। এর ফলে একদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা, অন্যদিকে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি ইসলামী শিক্ষা ও আদর্শভিত্তিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখেন।
বক্তাদের মতে, ইসলামী ঐক্য আন্দোলন প্রচলিত পশ্চিমা ধাঁচের রাজনৈতিক দল কিংবা ভোট ও জোটকেন্দ্রিক রাজনীতির পরিবর্তে ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে সমাজ ও রাষ্ট্রে পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও আধুনিক জ্ঞানচর্চার সমন্বয় ঘটাতে হবে। শিক্ষার্থীদের কেবল ধর্মীয় শিক্ষায় নয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতেও দক্ষ করে গড়ে তোলা জরুরি। অন্যথায় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং উন্নত জাতি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।
তাঁরা আরও বলেন, একটি সমৃদ্ধ ও আত্মমর্যাদাশীল জাতি গঠনে নৈতিকতা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং দেশপ্রেমের সমন্বয় অপরিহার্য। জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা নৈতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি আধুনিক বিশ্বের প্রতিযোগিতায় নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারে।
বক্তারা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার পাশাপাশি দুর্নীতি, অনিয়ম ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে নৈতিক শিক্ষার প্রসার এবং ইসলামী আদর্শের চর্চা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁরা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে শরিয়া আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার, শৃঙ্খলা ও জনকল্যাণ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। বক্তারা মরহুম ড. মুহাম্মদ এনামুল হক আজাদের জীবন, কর্ম ও আদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে ইসলামী শিক্ষা বিস্তার, নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। আলোচনা সভা শেষে মরহুম ড. মুহাম্মদ এনামুল হক আজাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
৯
