শুক্রবার | অক্টোবর ৩০, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই পেট্রলপাম্পে সংস্কারকাজের অভিযোগ, নিলামে কেনার দাবি অভিযুক্তের

সাতগাঁও চৌমুহনার ৫৮ শতক জমি নিয়ে বিরোধ:

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই পেট্রলপাম্পে সংস্কারকাজের অভিযোগ, নিলামে কেনার দাবি অভিযুক্তের

শাহাব উদ্দিন আহমদ, শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমিতে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগ উঠেছে শেখ মো. আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে। জমির উত্তরাধিকারীদের পক্ষে মো. জলিল মাহমুদ সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলে ধরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তবে অভিযুক্ত আফজাল হোসেনের দাবি, জমিটি তিনি আদালতের মাধ্যমে নিলামে কিনেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে শহরের বাগানবাড়ি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জলিল মাহমুদ দাবি করেন, উপজেলার আলীশারকুল মৌজায় সাতগাঁও চৌমুহনা-সংলগ্ন প্রায় ৫৮ শতক জমি তাঁর নানাশ্বশুর সিরাজ উল্লাহর উত্তরাধিকারীদের সম্পত্তি। ১৯৮২ সালে আজিজ মিয়া জমিটি দলিলমূলে কিনেছেন বলে দাবি করা হলেও ওই দলিলের বৈধতা নিয়ে তাঁদের আপত্তি রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, জমির মালিকানা হস্তান্তরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

জলিল মাহমুদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে জমিটি কয়েক দফা হাতবদল হয় এবং ব্যাংকে বন্ধক ও ঋণসংক্রান্ত মামলার সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ে। সিরাজ উল্লাহর উত্তরাধিকারীরা জমির মালিকানা দাবি করে আদালতের শরণাপন্ন হন। তিনি দাবি করেন, তাঁদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট ছয় মাসের জন্য এবং ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি আরও এক বছরের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞাটি ২০২৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বহাল থাকার কথা।

তাঁর অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা অবস্থায় ওই জমিতে থাকা পুরোনো পেট্রলপাম্পে নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপন, আলোকসজ্জা ও সংস্কারকাজ চালানো হচ্ছে। বাধা দিতে গেলে তাঁকে আদালত বা থানায় যেতে বলা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

জলিল মাহমুদ জানান, সিরাজ উল্লাহর দুই ছেলে আনসার মিয়া ও আনকার মিয়া মারা যাওয়ার পর তাঁদের উত্তরাধিকারীরা পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে তাঁকে জমিসংক্রান্ত মামলা ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। জমির নামজারি নিয়েও বিরোধ রয়েছে দাবি করে তিনি অভিযোগ করেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্ত ব্যক্তির নামে নামজারি করা হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জলিল মাহমুদ বলেন, তাঁরা কোনো অন্যায় সুবিধা চান না; জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ করে আইন অনুযায়ী ন্যায়বিচার চান। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসন, পুলিশ ও ভূমি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শেখ মো. আফজাল হোসেন এই প্রতিবেদককে বলেন, জমিটি ব্যাংকে ঋণের বিপরীতে জামানত রাখা ছিল। পরে ঋণ পরিশোধ নিয়ে জটিলতা দেখা দিলে অর্থঋণ আদালতে মামলা হয় এবং তিনি আদালতের মাধ্যমে নিলামে জমিটি কেনেন। কারও কোনো আপত্তি থাকলে তা ব্যাংক বা আদালতের সঙ্গে বোঝাপড়া করার পরামর্শ দেন তিনি। আফজাল হোসেন বলেন, ‘ব্যাংকের নিলামের জায়গা যা আদালত হয়ে নিলামে বিক্রি হয়, তা নিষ্কণ্টক জমি হিসেবে বিবেচিত হয়; বিধায় আমি সর্বোচ্চ দর দিয়ে জমি ক্রয় করেছি।’ বরুনা পীর পরিবারকে নিয়ে এমন ‘মিথ্যাচারের’ প্রতিবাদে শিগগিরই পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে জবাব দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

শ্রীমঙ্গল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘এ বিষয়ে দায়েরকৃত অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা